Header AD

প্রতিবছর নন্দীগ্রামে সেবাশ্রয় হবে, পারলে আটকে দেখাক! বিরোধী শিবিরকে ওপেন চ্যালেঞ্জ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

ডায়মন্ড হারবার লোকসভাকেন্দ্রের গণ্ডী ছাড়িয়ে সেবাশ্রয় (Sevashray) শিবির প্রথমবার পৌঁছে গেল শুভেন্দু অধিকারীর গড় নন্দীগ্রামে। বৃহস্পতিবার, প্রথমে নন্দীগ্রাম ২ ও পরে নন্দীগ্রাম ১-এ সেবাশ্রয় স্বাস্থ্যশিবির পরিদর্শন করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। ক্যাম্পের প্রচারে ব্যানার লাগাতে চাওয়া তৃণমূল কর্মীদের উপর চড়াও হয়ে মারধরের অভিযোগ ওঠে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। ছেঁড়া হয় সেবাশ্রয়ের পোস্টারও । ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। সেখানে থেকেই রাজ্যের বিরোধী দলনেতাকে কটাক্ষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপেন চ্যালেঞ্জ “প্রতিবছর নন্দীগ্রামে সেবাশ্রয় হবে-পারলে আটকে দেখাক।”

উল্লেখ্য বুধবার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের রমচকের তৃণমূল কর্মীরা। নন্দীগ্রাম ২ ব্লকের এই এলাকায় ব্যানার লাগানোর কাজের সময়ই চড়াও হয় বিজেপির দুষ্কৃতীরা। প্রথমে বাধা দেওয়া হয় ব্যানার লাগাতে। তৃণমূল কর্মীরা তা নিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়ালে তাদের মারধর করে ব্যানার ছিঁড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। এই বিষয়ে এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অভিষেক বলেন, যারা এইসব ব্যানার, হোর্ডিং,পোস্টার ছিঁড়ছে এটা তাদের হতাশার বহিঃপ্রকাশ। তাঁরা বুঝতে পারছে তাঁদের পায়ের তলা থেকে রাজনৈতিক মাটি সরে গিয়েছে। তাঁরা চায় না চারটে মানুষ উপকৃত হোক , স্বাস্থ্য পরিষেবা পাক। আমার লোক্সভা কেন্দ্রে যদি বিরোধীরা বা কেন্দ্রের তরফে কোনও প্রকল্প আসে আমি রেড কার্পেট পেতে নিয়ে আসব।” এরপরই তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এখানকার যিনি বিধায়ক তিনি কটা কেন্দ্রীয় প্রকল্প এনেছেন?” অভিষেক জানান, নন্দীগ্রামের বাসিন্দারাই তাঁদের এলাকায় সেবাশ্রয় শিবির করার আর্জি জানান। সেই আবেদনে সাড়া দিয়েই নিজের সাংসদীয় এলাকা ডায়মন্ড হারবারের বাইরে প্রথমবার নন্দীগ্রামের দুটি ব্লকে সেবাশ্রয়ের আয়োজন করেছেন অভিষেক। ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে শিবির।

অভিষেক এদিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “প্রতিবছর সেবাশ্রয় হবে নন্দীগ্রামে। পারলে আটকে দেখাক।” নাম না করে রাজ্যের বিরোধী দলনেতাকে তীব্র কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, “কেন্দ্রে এতবছর বিজেপি রয়েছে। এখানকার বিজেপি বিধায়ক কটা উন্নয়নমূলক প্রকল্প এনেছেন? পরিযায়ী শ্রমিক পরিবারের পাশে দাঁড়ায়নি। অসহায় পরিবারগুলোর সঙ্গে একদিনও গিয়ে দেখা করেছেন? যখনই মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রশ্ন উঠেছে তখনই তৃণমূল ছাড়া আর কাউকে মানুষ পায়নি।” এরপর বিরোধী শিবিরকে নিশানা করে ডায়মণ্ড হারবারের সাংসদ বলেন “নন্দীগ্রামে আমাদের সাংসদ-বিধায়ক নেই, তারপরেও আমার কাছে সেবাশ্রয় করার অনুরোধ আসে। আমি তো মানুষেকে ফেরাতে পারি না। এই নির্বাচনে নন্দীগ্রামে তৃণমূল জিতলে প্রতিটি ব্লকে বছরে ১৭টা করে সেবাশ্রয় ক্যাম্প করব।”

এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এস আই আর প্রক্রিয়া নিয়ে ফের কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে একযোগে নিশানা করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সাধারণ সম্পাদক। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি বলেন, বিজেপির সহকারি সংস্থা হিসাবে কমিশন কাজ করছে। লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সির নামে যে ৫৪ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে সেই তালিকা প্রকাশ না করলে কলকাতার সঙ্গে দিল্লিতেও আন্দোলন চলবে। এস আই আর-এ এখনও পর্যন্ত যে ৮২ জন মারা গিয়েছেন তার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী নির্বাচন কমিশন। আমরা এখনও আন্দোলন শুরু করিনি। আন্দোলন শুরু করলে বুঝতে পারবে বাংলার মানুষ ও তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতা।” সেই সঙ্গে কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁর হুঙ্কার, “যতই নোটিশ পাঠাবে তত ভোট কমবে।”

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সেবাশ্রয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন নিজে করেননি অভিষেক নিজে। তাঁর নির্দেশেই নন্দীগ্রামের শহিদ পরিবারের সদস্যদের হাত দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়। বেলা পৌনে তিনটে নাগাদ নন্দীগ্রামের (Nandigram) খোদামবাড়িতে পৌঁছে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন অভিষেক। পরে শিবিরে আসা রোগী ও তাঁর পরিজনদের সঙ্গে কথা বলে তৃণমূল সাংসদ। নির্দেশ দেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসার।