দীর্ঘ ৮ বছর ধরে ঝুলে থাকা হাওড়া পুরসভা নির্বাচনের জট খুলতে বিধানসভার শেষ দিনে বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। বিধানসভা সচিবালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশোধনী বিলে হাওড়া পুরসভার বর্তমান ৫০টি ওয়ার্ড ভেঙে ৬৬টি ওয়ার্ড তৈরি করার প্রস্তাব পাশ হয়েছে। এই প্রসঙ্গে শুক্রবার রাজ্যের পূর্ত ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের মন্ত্রী পুলক রায় হাওড়ায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, “এই সংশোধনী বিল নিয়ে বিধানসভায় আলোচনা করা হবে। মানুষের সঙ্গে আরও নিবিড় সম্পর্ক তৈরি করতেই হাওড়া পুরসভায় ওয়ার্ড সংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পরই হাওড়া পুরসভার ভোট কবে হবে তার সম্পূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য সরকার।”
সূত্রের খবর, আজ শনিবার অধিবেশনের দ্বিতীয়ার্ধে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পেশ করা হয় এই ‘হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন বিল, ২০২৬’। বিধানসভায় বিলটি পাশ করার পর তা সরাসরি পাঠানো হবে রাজ্যপালের অনুমোদনের জন্য। সেখানে রাজভবনের স্বাক্ষর মিললেই হাওড়া পুরসভায় ভোটের পথে আর কোনও আইনি বাধা থাকবে না, এমনটাই দাবি পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের একাংশের।
হাওড়া পুর নিগমের নির্বাচন শেষবার হয়েছিল ২০১৩ সালে। ২০১৫ সালে বালি পুরসভাকে হাওড়া পুরসভার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। সে সময় বালি পুরসভার ৩৫টি ওয়ার্ড ভেঙে ১৬টি ওয়ার্ড তৈরি করে তা হাওড়া পুরসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে ২০২১ সালে ক্ষমতায় এসে রাজ্য সরকার সংশোধনী বিল এনে বালি ও হাওড়াকে আবার পৃথক করে দেয়। সেই বিল ঘিরেই তৎকালীন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় বালির অংশে খরচ হওয়া অর্থ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। নবান্ন ও রাজভবনের মধ্যে টানাপড়েন শুরু হয়, যার জেরে আইনি জটিলতায় আটকে যায় ভোট প্রক্রিয়া। বিলটি বিধানসভায় পাশ হয়ে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের অনুমোদন পেলে তা আইনে পরিণত হবে। তার পর ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে হাওড়া পুরসভায় ভোটের প্রস্তুতি শুরু করা যাবে বলে মনে করছে প্রশাসন।
এ বার সেই অচলাবস্থা কাটাতে নতুন করে আইন সংশোধনের পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। শাসক তৃণমূল পরিষদীয় দলের বক্তব্য, সংশোধনী বিল কার্যকর হলে হাওড়া পুরভোট নিয়ে আর কোনও আইনি প্রশ্ন থাকবে না। এই বিলের পাশাপাশি আজ, শনিবারই বিধানসভায় আরও একটি বিল আনা হয়। মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে ‘মুর্শিদাবাদ রাজা কৃষ্ণনাথ বিশ্ববিদ্যালয়’ করার প্রস্তাব পেশ করা হয় বলে জানা যাচ্ছে। মুর্শিদাবাদ কৃষ্ণনাথ কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা দেওয়ার সময় রাজা কৃষ্ণনাথের নাম বাদ পড়ায় স্থানীয় মানুষের আবেগে আঘাত লেগেছিল। সেই আবেগের কথা মাথায় রেখে নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার।





