ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া বা এসআইআর-এর কাজ ঘিরে রাজ্যের সব জেলাশাসক তথা ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসারদের কড়া সতর্কবার্তা দিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar)। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (Election Commission Of India) ফুল বেঞ্চের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে একাধিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় কোনও গরমিল বরদাস্ত করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বিদেশি কোনও নাগরিক যাতে চূড়ান্ত তালিকায় থেকে না-যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে নির্বাচন কমিশন এমনই নির্দেশিকা জারি করেছে বলে খবর ।
শুক্রবার কমিশনের ফুল বেঞ্চ ভার্চুয়াল মাধ্যমে এই বৈঠক করেছে। এদিনের বৈঠকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা নির্বাচনী আধিকারিক, ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন আধিকারিক (ERO) এবং সহকারী ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন আধিকারিকেরা (AERO)। সেখানে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত তালিকায় কোনও বিদেশি নাগরিককে যদি পাঁচ বছর পরেও শনাক্ত করা যায়, তা হলেও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে। অন্তত পাঁচ বছর পর্যন্ত এই সমস্ত নথি সংরক্ষিত থাকবে কমিশনের কাছে। বৈঠকে অন্তত সাত জেলাশাসক কমিশনের তোপের মুখে পড়েছেন। খবর, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে জলপাইগুড়ি, মালদহ, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসকের সমালোচনা করা হয়েছে ভার্চুয়াল বৈঠকে। বৈঠকে ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসারদের সতর্ক করে কমিশনার বলেন, “আপনারা ভাববেন না যে আপনারা পালিয়ে যেতে পারবেন। আজ না হোক আগামী দু’বছর বাদেও কমিশন পদক্ষেপ করতে পারবে।” চূড়ান্ত তালিকায় গলদ ধরা পড়লে এই সমস্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করবে কমিশন। প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেছে কমিশন।
এসআইআরের (SIR) নথি কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করতে দেরি হওয়ায় ভর্ৎসিত হয়েছেন কোচবিহারের জেলাশাসক। কমিশনার বলেন, “অনেক জায়গা থেকেই ভুল ডকুমেন্ট আপলোড করা হচ্ছে। ডকুমেন্ট হিসেবে কোথাও আবার সংবাদপত্র আপলোড করে দেওয়া হয়েছে, আবার পাসপোর্ট আপলোড করার কথা বলা হলেও পাসপোর্ট এর জায়গায় ব্ল্যাঙ্ক পেপার আপলোড করে দেওয়া হচ্ছে।” উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা দুই জেলার জেলাশাসককে উদ্দেশ্য করে ভুল ডকুমেন্টগুলি দেখিয়ে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি বলা হয়েছে, আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় স্থানীয়ভাবে জেলাশাসকরা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় রিপোর্ট মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে দেবেন। তাদের কাছে ডকুমেন্টস না থাকলে স্থানীয়ভাবে জেলাশাসকরা সুপারিশ করে পাঠিয়ে দেবেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এর কাছে।
সূত্রের খবর এদিন জ্ঞানেশ কুমার বলেন, “এসআইআর এর কাজ সঠিকভাবে এবং নিখুঁতভাবে করতে হবে আপনাদের। অকারণে অপ্রাসঙ্গিক তথ্য আপলোড করবেন না। অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট নথির বাইরে অন্য কোনও নথি নেওয়া যাবে না। সে দিক থেকে আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে।কোনভাবেই কোন অপাসঙ্গিক নথি আপলোড যাতে না হয় সেটা নজর রাখুন। আমাদের ভালো মানের কাজ চাই। যেগুলি ইতি মধ্যেই নিষ্পত্তি হয়ে গেছে সেগুলির আবার যাচাই করুন। যাতে ভোটার তালিকায় অনৈতিকভাবে কোন নাম ঢুকতে না পারে বা নাম যাতে বাদ না যায়। শুনানিতে জমা পড়া সমস্ত নথি কমিশনের অনুমোদিত, নিশ্চিত করতে হবে ডিইও-দের। তাঁরা ব্যক্তিগত ভাবে যাচাই করে তা নিশ্চিত করবেন। সময় দেওয়া হয়েছে আগামী সোমবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত। এই সময়ের পর যদি অননুমোদিত কোনও নথি কমিশনের সিস্টেমে থাকে, সংশ্লিষ্ট জেলাশাসককে ব্যক্তিগত ভাবে তার জন্য দায়ী করা হবে এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করবে কমিশন।”





