অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দিলেন ‘চৌরঙ্গী’, ‘জন অরণ্য’-এর স্রষ্টা সাহিত্যিক মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায়(Monishankar Mukhopadhyay)ওরফে শঙ্কর। শুক্রবার দুপুর ১টা ১২ মিনিটে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বেশ কিছুদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। সাহিত্যিকের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ পাঠক, অনুরাগী, এবং সাহিত্যমহল। শঙ্করের (Monishankar Mukharjee)প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়(Abhisek Banarjee)। শোকপ্রকাশ করেছেন আরেক অনুজ বর্ষীয়ান সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।
সোশ্যাল মিডিয়ায় শোকবার্তায় অভিষেক লিখেছেন,’‘চৌরঙ্গী’ উপন্যাসের স্রষ্টা বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র সাহিত্যিক মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায় (শঙ্কর)-এর প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকস্তব্ধ। আমি তাঁর বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করি। তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি জানাই আমার আন্তরিক সমবেদনা।’

শঙ্করের(Monishankar Mukhopadhyay) মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন বিশিষ্ট সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু (Shirshendu Mukhopadhyay)। দীর্ঘদিনের পরিচয় ও বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করে বলেন, লেখালেখির একেবারে শুরুর সময় থেকেই তাঁদের আলাপ। শঙ্কর ছিলেন ভদ্র, বিনয়ী এবং অত্যন্ত স্নিগ্ধ স্বভাবের মানুষ। তাঁর মতো মানুষ আজকাল খুব কমই দেখা যায়। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের কথায়, ‘দেশ পত্রিকায় যখন শঙ্করের লেখা ‘কত অজানারে’ প্রকাশিত হয়, তখন পাঠক মহলে এক অভূতপূর্ব উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল। সেই লেখা গোগ্রাসে পড়তাম। এরপর একের পর এক কালজয়ী উপন্যাস বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে। ‘চৌরঙ্গী’, ‘জন অরণ্য’-সহ আরও বহু সৃষ্টি তাঁকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দেয়।’
শহর কলকাতাকে জানতে তাঁর লেখা বহু মানুষ তথা কয়েকটা গোটা প্রজন্মকে সাহায্য করেছে। সাহিত্যকের প্রয়াণে সেই কথাই স্বীকার করলেন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় (Srijit Mukherjee)। মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে তাই অনেকটাই আবেগপ্রবণ পরিচালক । সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, ‘আমার কাছে আপনি সবসময় সেই ব্যক্তিই থাকবেন, যাঁর একটি উপন্যাস, যা আমার কৈশোরে একটি দাগ রেখে যাওয়া অংশ, আমাকে এই কলকাতা (Kolkata) শহরকে ভালোবাসতে শিখিয়েছিল।’

সাহিত্যিকের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ প্রকাশকমহল। দেজ প্রকাশনার অন্যতম কর্ণধার শুভঙ্কর দে এক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “শংকরের সঙ্গে দেজ প্রকাশনার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। প্রথম ১৯৭৬ সালে তাঁর বই আমাদের প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত হয়। সেই বইটি ছিল ‘স্বর্গ মর্ত্য পাতাল’। তিনটি উপন্যাসের সংকলন। সেগুলি হল ‘সীমাবদ্ধ’ ‘আশা আকাঙ্ক্ষা’, ‘জনঅরণ্য’। সেই সময় থেকে দেজ-এর সঙ্গে তাঁর প্রকাশক-লেখক সম্পর্ক। তিনি আসলে একজন প্রকাশকের কাছে মহীরুহ, ছাতার মতোন। আজকে সেই মানুষটিকে আমরা হারালাম। তাঁর সৃষ্টি থেকে যাবে।”
শঙ্করের লেখনীর আধারে উঠে এসেছে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রামের না-বলা কথা। ‘কত অজানারে’ উপন্যাস লিখে জনপ্রিয়তা লাভ করেন। তাঁর উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি ১৯৬৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘চৌরঙ্গী’ চলচ্চিত্র ক্ষেত্রে শংকরের লেখনীর জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে দেয়। এই ছবিতে উত্তমকুমারের অভিনয় আলাদা মাত্রা এনে দিয়েছিল। এ ছাড়াও তিনি লিখেছেন, ‘সীমাবদ্ধ’, ‘জন অরণ্য’, ‘চরণ ছুঁয়ে যাই’, ‘অচেনা অজানা বিবেকানন্দ’ ইত্যাদি। তাঁর ‘সীমাবদ্ধ’ ও ‘জন অরণ্য’ উপন্যাস দুটির চিত্ররূপ দিয়েছিলেন সত্যজিৎ রায়।





