কোচবিহারের শীতলকুচিতে পণ্যবাহী লরি-সহ একটি সেতু হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা। ভেঙে পড়া সেতুর অংশ থেকে আটকে থাকা ডাম্পার উদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শীতলকুচি ব্লকের বারোমাশিয়া দেবনাথপাড়ায় অবস্থিত এই সেতুটি দেবনাথপাড়ার নতুন বাজার থেকে বারোমাশিয়া যাওয়ার গ্রামীণ সড়কের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ মাধ্যম। সেতুর নিচ দিয়ে একটি নদী বয়ে গিয়েছে। শুক্রবার সকালে একটি ডাম্পার সেতুর উপর দিয়ে যাওয়ার সময় আচমকাই সেতুর একটি অংশ ভেঙে পড়ে। বিকট শব্দ শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে দেখেন, সেতুর একাংশ নদীর উপর ভেঙে ঝুলে রয়েছে এবং তার উপরেই আটকে রয়েছে ডাম্পারটি।
তৎক্ষণাৎ পুলিশ-প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়। সৌভাগ্যবশত, এই ঘটনায় কোনও প্রাণহানির খবর নেই। ডাম্পারের চালককে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। জানা গিয়েছে, বাম আমলে প্রায় ২৫–৩০ বছর আগে এই সেতুটি নির্মাণ হয়েছিল। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি, অথচ নিয়ম ভেঙে ভারী যানবাহন চলাচল করত। দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে বহুদিন ধরেই উদ্বিগ্ন ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা, আর এদিন সেই আশঙ্কাই সত্যি হল।
স্থানীয়দের মতে, দুর্ঘটনাটি আরও ভয়াবহ হতে পারত। সামনে মাধ্যমিক পরীক্ষা থাকায় দ্রুত বিকল্প সেতু বা যাতায়াতের ব্যবস্থা না হলে পরীক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হবে। অনেকটা ঘুরে যাতায়াত করতে হবে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। পাশাপাশি, সেতুটি দ্রুত সংস্কার এবং ভবিষ্যতে ভারী যানবাহনের চলাচলের উপর কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপের দাবিও উঠেছে।
এ বিষয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে। আইন ভেঙে যদি ভারী যানবাহন সেতুর উপর দিয়ে চলাচল করে, তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।





