বিপুল পরিমাণ বুলেট এবং আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হল মুর্শিদাবাদের রানিতলা থানায় এলাকা থেকে।গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বর্ষ বরণের রাতে রানিতলা থানার পুলিশ ভান্ডারা এলাকায় এক ব্যক্তির মাঠের জমিতে জল দেওয়ার জন্য তৈরি ‘পাম্প হাউসে’ তল্লাশি চালিয়ে ৭০ টি বিভিন্ন ‘বোরের’ বুলেট এবং একটি দেশি ওয়ান শটার বন্দুক এবং একটি দেশি ডবল ব্যারেল বন্দুক উদ্ধার করে। এই বিপুল পরিমাণ বুলেট এবং আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে জেলা জুড়ে।
বেআইনিভাবে বিস্ফোরক ও আগ্নেয়াস্ত্র মজুত করে রাখার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ওই পাম্প হাউসের মালিক মানারুল সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃত ব্যক্তির বাড়ি ভান্ডারা গ্রামে। বৃহস্পতিবার ধৃত ব্যক্তিকে লালবাগ আদালতে তোলা হয়। পুলিশের তরফে ৭ দিনের পুলিশে হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত গত ৩০ তারিখ কলকাতা পুলিশ আরফানগঞ্জ এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ১১ টি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাজেশকুমার সাউ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃত ওই ব্যক্তি বিজেপি নেতা রাকেশ সিংহের ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিত।এবার মুর্শিদাবাদ থেকে বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনায় মুর্শিদাবাদের পুলিশ জেলার অতিরিক্ত সুপার (লালবাগ) রাসপ্রীত সিং বলেন,” গোপন সূত্রে প্রাপ্ত খবরের ভিত্তিতে বর্ষবরণের রাতে রানিতলা থানার পুলিশ ভান্ডারা এলাকায় মানারুল সরকার নামে এক ব্যক্তির পাম্প হাউসে অভিযান চালিয়ে ৭০ রাউন্ড বিভিন্ন বোরের গুলি এবং দু’টি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে। ধৃত ব্যক্তি কোথা থেকে এই আগ্নেয়াস্ত্র এবং গুলি জোগাড় করেছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
রানিতলা থানার এক আধিকারিক জানান, ধৃত ব্যক্তির বাড়ি মুর্শিদাবাদ এবং রানিতলা থানার সীমান্ত এলাকায়। সূত্রের খবর, দু’টি থানা এলাকার বিভিন্ন দুষ্কৃতীদলের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ রয়েছে। মানারুলের বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক অপরাধমূলক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনার ছড়ানোর জন্য ধৃত ব্যক্তি আরও কয়েকজনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে মুঙ্গের থেকে এই আগ্নেয়াস্ত্র এবং গুলি এনেছিল। এলাকার বাসিন্দারা যাতে কেউ ঘুণাক্ষরেও টের না পায় সেই কারণে মানারুল শেখ নামে ওই ব্যক্তি নিজের বাড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র এবং গুলি মজুত না করে তার চাষের জমিতে জল দেওয়ার জন্য তৈরী পাম্প হাউসে ওই বুলেট এবং বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রগুলো রেখে দিয়েছিল।
ধৃত ব্যক্তি এলাকার বিভিন্ন দুষ্কৃতী দলকে আগেও বেআইনিভাবে আগ্নেয়াস্ত্র এবং বুলেট সরবরাহ করেছে বলে খবর। মানারুলের কাছ থেকে বিভিন্ন ‘বোরের’ বুলেট উদ্ধার হওয়ায় পুলিশের অনুমান ধৃত ব্যক্তি এলাকার দুষ্কৃতী দলগুলোকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রকমের আগ্নেয়াস্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় বুলেট সরবরাহের বরাত পেয়েছিল।
আবার পুলিশের কয়েকজন আধিকারিক ধৃত ব্যক্তির সঙ্গে বাংলাদেশ যোগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না। পুলিশের এক আধিকারিক জানান, রানিতলা থানা এলাকা দিয়ে বাংলাদেশ সীমান্ত খুব সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায়। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অশান্তির কারণে সেখানে বিভিন্ন দুষ্কৃতী দল এবং কিছু জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্য ভারত থেকে বেআইনিভাবে চোরা পথে আগ্নেয়াস্ত্র এবং গুলি মজুত করছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। ধৃত মানারুল বাংলাদেশের কোনও দুষ্কৃতী দলকে এই আগ্নেয়াস্ত্র এবং গুলি সরবরাহ করতো কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।





