মিরিকের দুধিয়ায় ১৫ দিনের মধ্যে সেতু তৈরি করে দেওয়া হবে। দুধিয়ায় বালাসন নদীর উপর নতুন সেতু তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার মিরিকের দুর্যোগ পরবর্তী পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে দুর্গতদের আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রথমে আধিকারিকেরা জানিয়েছিলেন এক মাস সময় লাগবে সেতুটি তৈরি করতে। পরে বৈঠকে স্থির হয়েছে ১৫ দিনের মধ্যেই এটি করে ফেলা হবে। সেতুটি নির্মাণের জন্য রাজ্য সরকার বরাদ্দ করেছে ৫১ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকা।
পাশাপাশি দুর্গতদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যাঁদের ঘরবাড়ি নষ্ট হয়ে গিয়েছে, সেগুলি আমরা দেখে নেব।” একটি তালিকা তৈরি করার জন্য দার্জিলিঙের জেলাশাসককে নির্দেশ দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন,“যত দিন দুর্গতরা নিজেদের ঘরে ফিরতে না পারছেন, তত দিন কমিউনিটি কিচেন চালাতে হবে। যাঁদের নথিপত্র নষ্ট হয়ে গিয়েছে, তাঁদের জন্য বিশেষ ক্যাম্প চালু করতে হবে। আধার কার্ড, প্যান কার্ড, রেশন কার্ড, ছোটদের স্কুলের বই-সহ সব প্রয়োজনীয় জিনিসের ব্যবস্থা করা হবে সেই ক্যাম্প থেকে। আগামী এক মাস পর্যন্ত এগুলো চালাতে হবে। শুধু মিরিক নয়, যে সব এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সব জায়গায় এগুলো করতে হবে।”
উত্তরবঙ্গে দুর্যোগে মৃতদের পরিবারের জন্য আগেই ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার দুধিয়ায় স্বজনহারা ১৬টি পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। তাদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যে মানুষটা চলে গিয়েছেন, তাঁর জন্য কোনও প্রচেষ্টাই যথেষ্ট নয়। ঘর ভেঙে গেলে ঘর তৈরি করা যায়। জীবন চলে গেলে আর কিছুই করার থাকে না। মৃত্যু সবচেয়ে ভয়ঙ্কর। আপানারা যাঁরা পরিবারের লোকেদের হারিয়েছেন, এর জন্য আমরা অত্যন্ত মর্মাহত। কিন্তু কারও মৃত্যুর পরেও তো কেউ না কেউ থেকে যান। তাঁদের দেখভাল করার জন্য কিছু প্রয়োজন হয়। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এক মাসের মধ্যে মৃতদের পরিবারের এক জনকে স্পেশ্যাল হোমগার্ডের চাকরি দেব। শিক্ষাগত যোগ্যতা, উচ্চতার জন্য আপনারা চিন্তা করবেন না। বিশেষ ছাড় রয়েছে। লিখতে-পড়তে পারলেই হয়ে যাবে।” এ দিন দুধিয়ায় স্বজনহারা পরিবারগুলির হাতে আর্থিক সাহায্যও তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
দুর্গতদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী জানান, দুধিয়ায় একটি বিকল্প সেতু তৈরির কাজ শুরু করেছে রাজ্য সরকার। ভালো মানের একটি সেতু তৈরি করা হচ্ছে। তবে ওই বিকল্প সেতুটি তৈরি করতে এক বছর সময় লেগে যাবে। তাই আপাতত এলাকাবাসীদের জন্য ১৫ দিনের মধ্যে একটি সেতু তৈরি করে দেওয়া হবে। নাগরাকাটা এবং মিরিকের বিভিন্ন জায়গায় চার-পাঁচটি সেতুতে একসঙ্গে কাজ চালাচ্ছেন রাজ্য সরকারের ইঞ্জিনিয়ারেরা।
একইসঙ্গে আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নেপাল এবং ভূটানেরও কিছু দেহ আমাদের এখানে এসেছে। সেটা আমরা মুখ্যসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিকে বলেছি সসম্মানে দেহগুলি শনাক্ত করে বিস্তারিত তথ্য নিয়ে তাদের সরকারের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য।” দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার জেলায় দুর্যোগের কারণে যে কৃষকদের চাষের জমিতে ক্ষতি হয়েছে, তাঁদেরও পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। কৃষকদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “আপনাদের চিন্তা করার কোনও কারণ নেই।”






