Header AD

বিজ্ঞাপন দুনিয়ায় নক্ষত্রপতন, প্রয়াত পীযূষ পাণ্ডে, শোকপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর

দেশের বিজ্ঞাপন দুনিয়ার অন্যতম পথিকৃত পীযূষ পাণ্ডে প্রয়াত। দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। একটি সংক্রমণও হয়েছিল। শুক্রবার সকালে মুম্বইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৭০। ফেভিকল থেকে ক্যাডবেরি, এশিয়ান পেন্টস থেকে ভোডাফোন দেশি -বিদেশি অসংখ্য ব্র্যান্ড জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছেছিল পীযূষের দৌলতে। শনিবার সকালে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন মোদি এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘পীযূষ পাণ্ডে ছিলেন তাঁর সৃজনশীলতার জন্য প্রশংসিত। বিজ্ঞাপনের জগতে তিনি এক অসামান্য অবদান রেখেছেন। বছরের পর বছর ধরে আমাদের মধ্যে যে যোগাযোগ ছিল সেটা আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। ওঁর মৃত্যুতে আমি শোকাহত। ওঁর পরিবার এবং ভক্তদের প্রতি আমার সমবেদনা। ওম শান্তি।’

পীযূষ পাণ্ডের জন্ম জয়পুরে। প্রখ্যাত গায়িকা ইলা অরুণের ভাই তিনি। ১৯৮২ সালে বিজ্ঞাপন দুনিয়ায় পা রাখেন পীযূষ। সানলাইটের বিজ্ঞাপন দিয়ে তাঁর হাতেখড়ি। ক্রিকেট থেকে টি টেস্টিং-নানা বিষয়ে আগ্রহ থাকলেও বিজ্ঞাপনই ছিল প্রথম ও প্রধান প্রেম। ক্যাডবেরির ‘কুছ খাস হ্যায়’, ‘এশিয়ান পেন্টস’-এর বিজ্ঞাপন ‘হর খুশি মে রং লায়ে’, ‘ফেভিকল’-এর একাধিক বিজ্ঞাপন কিংবা ভোডাফোনের (তখন নাম ছিল হাচ) পাগ কুকুরের বিজ্ঞাপনের মতো অসংখ্য ‘মিথ’ হয়ে যাওয়া বিজ্ঞাপনের স্রষ্টা পীযূষ। দূরদর্শনে ‘মিলে সুর মেরা তুমহারা’র মতো দেশভক্তির গানের ভিডিও-তে পীষূষের কণ্ঠ ব্যবহৃত হয়েছিল। ২০১৩ সালে জন আব্রাহামের সঙ্গে ‘ ম্যাড্রাস ক্যাফে’ ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। এছাড়া ‘ভূপাল এক্সপ্রেস’ ছবির সহচিত্রনাট্যকারও ছিলেন তিনি। পাশাপাশি ওগিলভির চিফ ক্রিয়েটিভ অফিসার ওয়ার্ল্ডওয়াইড (২০১৯) এবং এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান ইন্ডিয়া হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ২০২৪ সালে এলআইএ লেজেন্ড অ্যাওয়ার্ড এবং ২০১৬ সালে পদ্মশ্রী সম্মান পান পীযূষ। সাম্প্রতিক অতীতে অর্থাৎ ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনী প্রচারের স্লোগান ‘অব কি বার, মোদি সরকার’ও তাঁরই মস্তিষ্কপ্রসূত। যা ‘ব্র্যান্ড মোদি’ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছিল বলে অনেকের অভিমত।