১ জানুয়ারি একদিকে যেমন নববর্ষ অন্যদিকে তেমনি এই দিনটা বাঙালির কাছে কল্পতরু উৎসবের দিন। কাশিপুর উদ্যানবাটি থেকে দক্ষিণেশ্বর, বেলুড় মঠ, কামারপুকুর- প্রবল ঠান্ডাকে উপেক্ষা করে সর্বত্র ভোর থেকে ভক্তদের ঢল নেমেছে। ভিড় সামাল দিতে বিশেষ নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। কল্পতরু উৎসবের (Kalpataru Utsab) শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Mamata Banerjee)।সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টে তিনি জানান, ‘সকলকে জানাই পবিত্র কল্পতরু উৎসবের শুভেচ্ছা’।
প্রতিবারই বছরের প্রথমদিন তুলনামূলক বেশি ভক্ত সমাগম হয় উত্তর কলকাতার কাশীপুর উদ্যানবাটি ও দক্ষিণেশ্বরে। কল্পতরু উৎসবে যোগ দেন বহু মানুষ। দিনভর চলে হোম-যজ্ঞ ও পুজোপাঠ। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই মন্দিরের বাইরে ফুলের ডালা হাতে ভক্তদের লম্বা লাইন চোখে পড়েছে।২০২৫ এর শেষটা হয়েছে প্রবল শৈত্য প্রবাহের মধ্যে দিয়েই। অথচ ১ জনুয়ারির ভোরে কাশিপুর উদ্যানবাটিকে (Cossipore Udyanbati) দেখে তা বোঝারই উপায় নেই। ভোর থেকেই প্রথা অনুযায়ী শুরু হয় পুজোপাঠ। অন্যদিকে মন্ত্রোচ্চারণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন কাশিপুর উদ্যানবাটিতে।
ভক্তের ঢল দক্ষিণেশ্বরেও। ভোররাত থেকেই মন্দির চত্বরে ভক্তদের লম্বা লাইন। বেলুড় মঠেও অগণিত ভক্তের উপচে পড়া ভিড়। কল্পতরু উৎসবের দিন ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের কাছে মন থেকে কিছু চাইলে সেই মনোবাঞ্ছা পূরণ হয়, সেই বিশ্বাস থেকেই সাতসকালে মন্দিরের বাইরে ভক্তের ঢল।
প্রসঙ্গত, ১৮৮৬ সালের ১ জানুয়ারি রোগে আক্রান্ত অবস্থায় যখন শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসের চিকিৎসা চলছিল কাশীপুর উদ্যানবাটিতে, সেই সময় তিনি ভক্তদের বলেছিলেন ‘তোমাদের চৈতন্য হোক’। চৈতন্য হওয়া মানে সব বিষয়ে সচেতন হওয়া। আত্ম শ্রদ্ধা, আত্ম সম্মানবোধ, পারিপার্শ্বিক অবস্থা সম্বন্ধে সচেতন হওয়া। রামচন্দ্র দত্ত এই ঘটনাকে বলেছিলেন – ঠাকুর সেদিন কল্পতরু হয়েছিলেন।
আপামর বাঙালি সেই চৈতন্যের প্রার্থনায় প্রতিবছর সাড়ম্বরে পালন করে কল্পতরু উৎসব।





