কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে জেলাওয়ারি সাংগঠনিক বৈঠক করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার তাঁর ক্যামাক স্ট্রিটের দফতরে প্রথমে কোচবিহার ও পরে আলিপুরদুয়ার জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। মূলত ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দুই জেলার তৃণমুল নেতৃত্বকে এদিন একাধিক নির্দেশ দিয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। এদিনের বৈঠকে রাজ্য সরকারের নয়া কর্মসূচি “আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান” নিয়ে বাড়তি গুরুত্ব ও নজর দেওয়ার কথা বলেছেন অভিষেক। এছাড়াও রাজ্য সরকারের সব উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির সুফল যাতে দুই জেলার প্রতিটি মানুষ পান সেদিকে লক্ষ্য রাখতে বলা হয়েছে। এদিনের বৈঠকে কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলার প্রতিটি বিধানসভা ধরে আলোচনা হয়। বেশকিছু নির্দেশ দিয়েছেন সুব্রত বক্সিও। কোচবিহার জেলায় প্রায় তিন হাজারের বেশি ক্যাম্প হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিটি শিবির যাতে ভো ভাবে হয় সেদিকে নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও বাংলা ভাষা ও বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের যেভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে এ বিষয়ে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দল যেভাবে প্রতিবাদ আন্দোলন শুরু করেছে তা যথাযথভাবে জারি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দুই জেলা নেতৃত্বকে। এদিনের বৈঠকে দুই জেলার ব্লক সভাপতি পরিবর্তন – পরিমার্জন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। দুই জেলার তরফেই তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও জেলায় সার্ভে করে তুলে আনা একটি আলাদা তালিকা নিয়েও আলোচনা হয়। পারফরমেন্স সহ সবদিক বিচার করেই ব্লক সভাপতি পরিবর্তন বা পরিমার্জন করা হবে। বৈঠক শেষে আলিপুরদুয়ার জেলা নেতৃত্বের তরফে বিধানসভা ওয়ারি গুরুত্বপুর্ন কাজ যা করার দরকার তার একটি তালিকা তুলে দেওয়া হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। সর্বোপরি দুই জেলাতেই নেতৃত্বকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজের নির্দেশ দিয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে জেলার শাখা সংগঠনগুলি নিয়েও। এছাড়াও যেভাবে এই দুই জেলায় এন আর সির নোটিশ পাঠানো হচ্ছে সেদিকে নজর রাখা ও প্রতিবাদ জারি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিন কোচবিহার জেলার তরফে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ, জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক, চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মন, মহিলা তৃণমূলের জেলা সভানেত্রী সুচিস্মিতা দেব শর্মা, শ্রমিক সংগঠনের জেলা সভাপতি রাজেন্দ্র কুমার বৈদ, মেখলিগঞ্জ এর বিধায়ক পরেশচন্দ্র অধিকারী, সিতাই এর বিধায়ক সংগীতা রায়। আলিপুরদুয়ার জেলার তরফে ছিলেন, প্রকাশচিক বড়াইক, সুমন কাঞ্জিলাল, গঙ্গা প্রসাদ শর্মা, জয় প্রকাশ টপ্পো, বিনোদ মিঞ্জ, সমীর ঘোষ ও চিত্রা নার্জিনারী।





