Header AD

SIR নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠক, দায়িত্ব বুঝিয়ে দিলেন সকলকে

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৮ অক্টোবর থেকে রাজ্যে শুরু হয়েছে ভোটার তালিকায় নিবিড় সমীক্ষা(SIR)র কাজ। গোটা প্রক্রিয়ায় বিএলওদের সঙ্গে বুথ স্তরে ভোটারদের সহযোগিতা করতে থাকবেন তৃণমূলের বিএলএ-রাও – ইতিপূর্বেই এই ঘোষণা করেছে রাজ্যের শাসক দল। এই আবহে শুক্রবার দলের নেতা কর্মীদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করলেন তৃণমূলের সর্বাভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়(Abhishek Banerjee)।সূত্রের খবর মিটিং-এ ছিলেন প্রায় ১৮ হাজার নেতা-কর্মী । এই মিটিং-এ দলীয় কর্মীদের এস আই আর পর্বে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।

এদিনের মিটিং-এ কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে তোপ দেগে অভিষেক বলেন, “এস আই আর হল চুপি চুপি ভোটের কারচুপি। SIR-এর নামে সারা রাজ্য জুড়ে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে কমিশন। একাধিক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। একজন বিষ খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি। তাঁর আরোগ্য কামনা করি। টিটাগরেও কাকলি সরকার নামে একজন আত্মহত্যা করেছেন। “

এরপরই তিনি বিএলএ দের কাজের বিষয়ে আলোচনা করেন । বলেন, “বি এল এ ১- কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দল থেকে।বি এল এ ২-দের অ্যাপয়েন্টমেন্ট ৩ নভেম্বরের মধ্যে ঠিক করে কমিশনকে দিতে হবে। ৪ তারিখ থেকে শুরু হবে মূল প্রক্রিয়া।বি এল এ ২ দের দায়িত্ব হবে, এম্যুনারেশন ফর্ম ১০০ শতাংশ ফিলাপ করা। বি এল ও- রা যখন ভোটারদের বাড়িতে যাবেন তখন তাঁদের ছায়া সঙ্গী হিসেবে থাকতে হবে বিএলএ-দের। এই নয় যে দুপুরে বাড়িতে খেতে চলে যাবেন।” এরপরই বিএলএ ২ দের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা, “বি এল এ ২ রা যখন দেখবেন কোনো ভোটারের সব তথ্য ঠিক আছে সঙ্গে সঙ্গে দিদির দূত অ্যাপে তুলবেন। কোনও ভোটারের সমস্যা থাকলে সেটাও তুলবেন।”

বিএলএ ১ দেরও দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন তৃণমুলের সর্বাভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তিনি বেলন, “বি এল এ ১- এর দায়িত্ব হলো ডিস্ট্রিক্ট ইলেক্টোরাল অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে সবটা দেখা। আলোচনা করে সমাধান করা। সেখানেও সমস্যা হলে রাজ্য কমিটিকে জানাতে হবে।” পাশাপাশি ভোটার তালিকায় অসঙ্গতির বিষয়ে তিনি বলেন, “কোচবিহার, অশোকনগরসহ একাধিক জায়গায় অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। সকলকে বলব ২০০২ এর হার্ড কপির সঙ্গে এখনকার অনলাইন কপি মিলিয়ে দেখবেন।”

সাংসদ-বিধায়কদেরও দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, “এমপি এম এল এ দের দায়িত্ব হবে, দায়িত্ব প্রাপ্ত বিএলএদের সহযোগিতা করা।অঞ্চল সভাপতি ও গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে আগামী ৩ মাস। বাংলার ৩ হাজার ৩৪৫ টি গ্রাম পঞ্চায়েত আছে, মিউনিসিপাল ওয়ার্ড আছে ২হাজার ৯০০ মতো। দলের সিদ্ধান্ত হল, ৪ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর আপনাদের নির্দিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েতে হেল্প ডেস্ক চালু করতে হবে। সেখানে অন্তত একটা ল্যাপটপ , প্রিন্টার, ইন্টারনেট কানেকশন রাখতে হবে। কোনও মানুষ সাহায্য চাইলে তারা যেন দেখে একমাত্র তৃণমুল কংগ্রেস পাশে আছে। সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত ক্যাম্প চলবে।
পঞ্চায়েতের ক্ষেত্রে দায়িত্ব পঞ্চায়েত সভাপতি ও অঞ্চল প্রধান নেবেন। টাউনের ক্ষেত্রে ওয়ার্ড সভাপতির দায়িত্ব। ৬হাজার ২০৮টি ক্যাম্প আগামী ১ মাস ধরে চলবে।
এম পি, এম এল এ দের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, প্রতিটি বিধানসভায় আগামী ৪ তারিখ থেকে বি এল এ ২ এর সঙ্গে যোগাযোগ রাখার। প্রতিদিন একটি বিধানসভার ৩০ জন বি এল এ ২ এর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ রাখবেন একজন। সমস্যা জেনে এম পি ও এম এল এ রা সমাধান করবে। না পারলে আমাদের জানাবেন।দিদির দূত অ্যাপ-এ কোনও সমস্যা হলে আমাদের জানাবেন।” বলা যায় এই ভার্চুয়াল মিটিং-এর হাত ধরে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের ওয়ার্ম আপ শুরু করে দিল রাজ্যের শাসক দল।