“নোটবন্দির পর এখন জনবগণবন্দি করছে। আপনাদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত চলছে। ওদের ফাঁদে পা দেবেন না। প্ররোচনায় পা দেবেন না। বিজেপির চক্রান্তে নিজের প্রাণ দেবেন না। প্রাণ অমূল্য সম্পদ। চরম সিদ্ধান্ত নেবেন না।“ SIR চক্রান্তের প্রতিবাদে মঞ্চ থেকে দিল্লির বিজেপি সরকারকে ফের তীব্র আক্রমণ করে এভাবেই সাধারণ মানুষকে সতর্ক করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকে তোপ দেগে দলনেত্রীর হূঁশিয়ারি, রাজনৈতিক দলের কর্মীর মতো কাজ করবেন না।
এদিনের সভা থেকে বিজেপিকে তুলোধোনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। তিনি বললেন, ‘মনে রাখবেন বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি হয় না। উর্দু বললেই সে পাকিস্তানি না। যে যেখানে কাজ করতে যাচ্ছে সবাইকে বাংলাদেশি বলা হচ্ছে। এই মূর্খ, অর্ধশিক্ষিতদের মাথায় কিছু ছিল না…স্বাধীনতার ইতিহাস এরা জানে না। স্বাধীনতার সময় এরা কোথায় ছিল? আগে তো বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত কিন্তু একই ছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যার যেখানে যাওয়ার গিয়েছে। বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি হয়ে যায় না। ’ এরপরই বিজেপির ভোটরাজনীতির কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ওদের জমিদার বললে কম হবে, ওরা লুটেরা। ফেক নিউজ ছড়াচ্ছে। মানুষকে চোর বলে। মনে রাখবে সবসময় তোমরা ক্ষমতা থাকবে না।‘ এরপরই নাম না করে শুভেন্দু-শাহকে তোপ মমতার ‘বিজেপি ভোটে নয়, নোটে জেতে। ওদের কত বাবু, বড় বাবু, ছোটো বাবু…আমি চেয়ারকে সম্মান করি। কিন্তু দালালিরও একটা সীমা থাকে। অত্যাচারের সব সীমা তো আপনারা পার করে ফেলেছেন।’, ম্যাপিংয়ে বহু ভোটারের নাম সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করলেন তিনি। এরপরই তাঁর প্রশ্ন, “২০০১ সালের নির্বাচনের পর বাংলায় শেষ এসআইআর হয়েছিল। তারপর ২ বছর ভোট ছিল না। আজকে হঠাৎ কেন মোদি বাবু আর অমিত শাহকে খুশি করতে কুর্সিবাবু ইতিহাস তৈরি করতে চলেছেন!” কেন ভোটের পর এসআই আর হচ্ছে না সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।‘৭ বার সাংসদ, ৩ বারের মুখ্যমন্ত্রী, ৪ বার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়ার পর প্রমাণ দিতে হবে আমি বাংলাদেশি নই’, প্রশ্ন তুললেন মমতা। ২ কোটি ভোটারের নাম কাটার চক্রান্ত চলছে, এমনই অভিযোগ তুলে ফুঁসে উঠলেন তিনি। রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিজোরাম, নাগাল্য়ান্ড, ত্রিপুরা, অসমে এসআইআর হল না কেন? এদিন সে প্রশ্নও তোলেন তৃণমূল নেত্রী।
এস আই আর আতঙ্কে ইতিমধ্যে রাজ্যে বেশ কয়েকটি মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। এসআইআর নিয়ে আতঙ্কগ্রস্ত রাজ্যবাসীকে তাঁর বার্তা,“অফিশিয়াল বিএলও-দেরই তথ্য দিন, সবাইকে দেবেন না। আপনি ধরুন বাড়িতে নেই। তখন কি নাম বাদ যাবে? না, আমরা তাই তৃণমূল হেল্পডেস্ক করে দিয়েছি। ওরা সাহায্য করবে।” আধার কার্ডের সঙ্গে আর কোন কোন নথি গ্রহণযোগ্য এদিন তা বুঝিয়ে বললেন মমতা।





