Header AD
Trending

ব্যবসার লোভে প্রচারে আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগ! রানির ‘মর্দানি ৩’ ঘিরে ভুয়ো গুম-কাণ্ডে ক্ষুব্ধ দিল্লি পুলিশ

সিনেমার প্রচারের জন্য অভিনব কৌশল নতুন কিছু নয়। কিন্তু সেই প্রচার যদি জনমনে ভয় আর বিভ্রান্তি ছড়ায়, তা হলে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। এমনই অভিযোগকে কেন্দ্র করে আলোচনার ঝড় উঠেছে রানি মুখোপাধ্যায় অভিনীত ‘মর্দানি ৩’ ছবিকে ঘিরে। বিষয়টি এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে, শেষ পর্যন্ত নড়েচড়ে বসতে হয় দিল্লি পুলিশকেও।

ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের শুরুতে। হঠাৎ করেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক পোস্ট ছড়িয়ে পড়তে থাকে, যেখানে দাবি করা হয়—দিল্লি থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে অসংখ্য শিশু, কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণী। সংখ্যাটা কোথাও কোথাও কয়েকশো বলেও উল্লেখ করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই এই পোস্টগুলি দ্রুত ভাইরাল হয় এবং রাজধানী জুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তদন্তে নামে দিল্লি পুলিশ। সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট, তথাকথিত ‘মিসিং ডায়েরি’ এবং ছড়িয়ে পড়া তথ্য খতিয়ে দেখতে গিয়েই পুলিশ লক্ষ্য করে, এই নিখোঁজ সংক্রান্ত গল্পের সঙ্গে রানি মুখোপাধ্যায়ের বলিউড ছবি ‘মর্দানি ৩-এর কাহিনির আশ্চর্য মিল রয়েছে। উল্লেখ্য, এই ছবিতে রানিকে দেখা যাচ্ছে নারীপাচার ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে লড়াই করা এক দৃঢ়চেতা পুলিশ অফিসারের ভূমিকায়। তদন্ত যত এগোয়, ততই সামনে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, এই ‘গুম’-সংক্রান্ত পোস্টগুলি আসলে একটি পরিকল্পিত প্রচারমূলক কৌশলের অংশ, যা ছবির প্রচারের জন্য অর্থের বিনিময়ে করানো হয়েছে। ১০ জানুয়ারি যশরাজ ফিল্মস থেকে ‘মর্দানি ৩’-এর প্রথম প্রোমো প্রকাশ্যে আসার পরই প্রথমে মুম্বই এবং পরে দিল্লিতে এই ধরনের পোস্ট ছড়াতে শুরু করে।

এরপরই দিল্লি পুলিশের তরফে একটি কড়া বিবৃতি জারি করা হয়। সেখানে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে বলা হয়, কেউ যেন এই ধরনের গুজবে আতঙ্কিত না হন। পাশাপাশি নাম উল্লেখ না করলেও, স্পষ্ট ভাষায় নির্মাতাদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়—ব্যবসায়িক স্বার্থে জনসাধারণের মধ্যে ভয় ও বিভ্রান্তি ছড়ানো কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এ ধরনের কাজে যুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।

তবে এই অভিযোগ মানতে নারাজ প্রযোজনা সংস্থা। যশরাজ ফিল্মস-এর এক মুখপাত্র জানান, “এত সংবেদনশীল বিষয়কে এভাবে চাঞ্চল্যকর প্রচারের সঙ্গে জড়ানোর অভিযোগ আমরা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করছি। আমরা তদন্তকারী সংস্থার উপর পূর্ণ আস্থা রাখছি। সত্য শিগগিরই সামনে আসবে।” সমাজ সচেতনতার বার্তা দিতে তৈরি একটি ছবির প্রচার ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।