Header AD
Trending

বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূলের নতুন কৌশল: সোমবার নজরুল মঞ্চ থেকে ‘তফসিলি সংলাপ’-এর সূচনায় অভিষেক

বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি অনেক আগেই শুরু করে দিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই রণকৌশলের অংশ হিসেবে সোমবার, ২ মার্চ কলকাতার নজরুল মঞ্চ থেকে এক নতুন রাজনৈতিক কর্মসূচির সূচনা হতে চলেছে। কর্মসূচির নাম—‘তফসিলি সংলাপ’। দুপুর ১২টা নাগাদ আয়োজিত এই কর্মসূচিতে দলের এসসি, এসটি ও ওবিসি সেলের নেতা-কর্মীদের রাজ্যজুড়ে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে থাকবেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।দলীয় সূত্রের খবর, এই মঞ্চ থেকেই ‘তফসিলি সংলাপ’-এর সম্পূর্ণ রূপরেখা ও রাজনৈতিক কৌশল তুলে ধরবেন অভিষেক। জেলা ও ব্লক স্তরের নেতা-কর্মীদের জানিয়ে দেওয়া হবে—কীভাবে ঘরে ঘরে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ করতে হবে। অতীতে ‘দিদির সুরক্ষা কবচ’ বা ‘তৃণমূলে নবজোয়ার’-এর মতো কর্মসূচিতে যেভাবে দায়িত্ব ভাগ করা হয়েছিল, এবারও সেই মডেলেই কাজ হবে। অনুষ্ঠান শেষ হতেই নজরুল মঞ্চ থেকে সুসজ্জিত প্রচার-গাড়ি রাজ্যের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশে রওনা দেবে।এই কর্মসূচির লক্ষ্য মূলত দু’টি। একদিকে, গত দশ বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরর নেতৃত্বে রাজ্য সরকার তফসিলি জাতি ও উপজাতিদের জন্য যে সব উন্নয়নমূলক প্রকল্প চালু করেছে, তার বিস্তারিত তথ্য মানুষের সামনে তুলে ধরা হবে। অন্যদিকে, বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে দলিত ও আদিবাসীদের উপর হওয়া বিভিন্ন অত্যাচার ও অপরাধের পরিসংখ্যান সামনে এনে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার কৌশল নেওয়া হয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, তথ্য ও পরিসংখ্যানের মাধ্যমে প্রমাণ করা হবে যে পশ্চিমবঙ্গে তফসিলি মানুষেরা তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ।দলের অন্দরমহলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কার্যত ‘মহাযুদ্ধ’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। মাসখানেকের মধ্যেই ভোটের ঘোষণা আসতে পারে বলে অনুমান। তার আগেই সংগঠনের প্রতিটি স্তরকে সক্রিয় করতে চাইছে শীর্ষ নেতৃত্ব। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—যাঁরা মাঠে থেকে লড়াই করবেন না, দলও তাঁদের পাশে থাকবে না। আগামী তিন মাস বিধায়ক ও সাংসদদের নিয়মিত এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রিপোর্ট জমা দিতে হবে দলীয় কার্যালয়ে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের একাধিক তফসিলি অধ্যুষিত আসনে বিজেপির ভালো ফলের পর সেই জমি পুনরুদ্ধার করতেই তৃণমূলের এই ‘তফসিলি সংলাপ’। নারী ভোটব্যাঙ্কের জন্য মহিলা শাখাকে সক্রিয় করার পর এবার প্রান্তিক মানুষের মন জয়েই সরাসরি মাঠে নামছে শাসক দল।