২৮ অক্টোবর থেকে বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর কথা ঘোষণা করা হয়। এসআইআর লাগু হওয়ায় নাগরিকত্ব বাতিল হতে পারে ,ফিরে যেতে হতে পারে বাংলাদেশে। বাংলার বহু নাগরিকের মনেই এখন এই আতঙ্ক বাসা বেঁধেছে। বৃহস্পতিবার বীরভূমের ইলামবাজারের ৯৫ বছরের প্রৌঢ় ক্ষিতীশচন্দ্র মজুমদারের মৃত্যুর নেপথ্যে স্রেফ এই আতঙ্ক কাজ করেছিল বলে দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা। বৃদ্ধের মেয়ের বাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। এই মৃত্যু নিয়ে এবার ফুঁসে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে তাঁর বার্তা, ‘শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়ব।‘ জনতার উদ্দেশে লিখলেন, ‘চরম কোনও পদক্ষেপ নেবেন না, মা-মাটি-মানুষের সরকার পাশে রয়েছে।’
প্রস্নজ্ঞত, এসআইআর প্রক্রিয়া ঘোষণা করার দিনই আতঙ্কে পানিহাটির প্রদীপ করের আত্মহত্যার ঘটনা সামনে আসে। সুইসাইড নোটে তিনি এনিয়ে আতঙ্কের কথা লিখে গিয়েছিলেন বলে জানা যায়। এরপর বুধবার, কোচবিহারের খায়রুল শেখের নাম ভোটার তালিকায় ভুল থাকার কারণে নাগরিকত্ব বাতিলের ভয়ে তিনিও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। সারা রাজ্যজুড়ে একের পর এক এই ধরণের ঘটনায় বিজেপিকে দায়ী করার পাশাপাশি জনতার উদ্দেশে আশ্বাসবাণীও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, ‘এধরনের যে অনিবার্য ঘটনা ঘটে চলেছে, তার দায়িত্ব কে নেবে? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক নাকি বিজেপি ও তার সঙ্গীরা? এই যে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে, তা নিয়ে সাহস থাকলে বিজেপি নেতারা সকলের সামনে এসে কথা বলুন।’ এর পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের নাম না করেও মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, ‘বাংলায় সোজা পথে বা বাঁকা পথে এনআরসি হতে দেব না। একজন নাগরিককেও বহিরাগত তকমা দিতে দেব না। এমনটা হলে বাংলা শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়বে।’





