Header AD
Trending

“আর প্লে ব্যাক করব না” অরিজিৎ সিংয়ের আচমকা ঘোষণায় হতাশ সঙ্গীতানুরাগীরা

৩৮ বছরেই সিনেমার গানের জগৎ থেকে অবসর নিয়ে নিলেন অরিজিৎ সিং। মঙ্গলবার রাতে নিজে সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে পোস্ট করে অরিজিৎ জানিয়ে দেন, তিনি আর প্লেব্যাক করবেন না। তুম হি হো, চান্না মেরে আ, হাওয়ায়ে, বোঝে না সে বোঝে না, ও মাহি, হামারি আধুরি কাহানি, রং দে মোহে গেরুয়া – বাংলা হিন্দি মিলিয়ে অসংখ্য সুপারহিট গানের স্রষ্টার এরকম আচমকা সিদ্ধান্তে হতচকিত মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি থেকে গান প্রেমী সাধারণ মানুষ। Instagram পোস্টে তিনি লিখেছেন, হ্যালো সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা। শ্রোতা হিসেবে এত বছর ধরে আমাকে ভালোবাসা দেওয়ার জন্য আমি আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ দিতে চাই। অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে আমি জানাচ্ছি এই মুহুর্তের পর থেকে আর কোনও প্লে ব্যাক করব না। আমি অবসর নিলাম। এই জার্নিটা খুবই মধুর ছিল।”

এই পোষ্টের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে কমেন্টের বন্যা বয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবেই কারো যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না এই বার্তা। ওই পোষ্টের কমেন্টে এক অনুরাগী লিখেছেন, এটা অনেকটা বিরাট কোহলি টেস্ট ক্রিকেট থেকে রিটায়ারমেন্ট নেওয়ার মতো শক। একজন লিখেছেন, ভগবান আমি ভেবেছিলাম এটা মিথ্যে খবর। প্রার্থনা করি খবরটা যেন মিথ্যেই হয়। আরে অনুরাগী লিখেছেন, অরিজিৎ ছাড়া বলিউড মিউজিক শূন্য। ওই পোস্টেই একজন নেট নাগরিকের কথায় কিছুটা আসার সঞ্চার হয়েছে। কমেন্ট সেকশোন তিনি লিখেছেন, অরিজিৎ সিং মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে দিয়েছে এ কথা বলেননি। কে বলেছেন ভোকালিস্ট হিসেবে তাঁকে আর পাওয়া যাবে না। সংগীতের অন্যান্য কাজ হয়তো তিনি করবেন। হপ গান না গাইলেও কিছু সিলেক্টেড গান ভেঙে গাইতেই পারতেন। যদিও এটা তাঁর সিদ্ধান্ত। সকলের সম্মান করাই উচিত। নিঃসন্দেহে অভিজিৎ বর্তমান সময়ের সব থেকে সফল ও জনপ্রিয় গায়ক।

দেশের মধ্যেই শুধু নয়, আন্তর্জাতিক স্তরেও পারিশ্রমিকের নিরিখে অন্যতম বড় নাম অরিজিৎ। এড শিরান, মার্টিন গ্যারির মতো বিশ্বখ্যাত তারকাদের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। কিন্তু এতসবের মধ্যেও তার চরিত্রের মানবিক দিক এবং অনারম্বর জীবন যাপন সকলকে আকৃষ্ট করে। ক্যারিয়ারে অসাধারণ সব সাফল্য আয়ত্ত করেও তিনি নিজেকে মাটির কাছাকাছি রাখতেই ভালোবাসেন। প্রচারে না থেকে নিজেকে ব্যক্তিগত রাখতেই পছন্দ করেন। বিভিন্ন সময় পাওয়া তথ্য অনুসারে, অরিজিৎ সিং এর সম্পত্তির পরিমাণ ৪১৪ কোটি। নভি মুম্বাইয়ে তাঁর ৮ কোটির একটি বাড়ি রয়েছে। এই বাড়ির গ্যারাজে প্রায় চার কোটি টাকা মূল্যের দুটি গাড়ি রয়েছে- রেঞ্জ রোভার আর মার্সিডিজ। এই আকাশছোঁয়া সাফল্য আর সম্পত্তি সত্ত্বেও অরিজিৎ পছন্দ করেন মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ এলাকায় নিজের পৈতৃক বাড়িতে থাকতে। সেখানে তাঁর সাধারণ জীবন যাত্রা, স্কুটি করে এলাকায় ঘোরা, ছেলেকে নিয়ে স্কুলের লাইনে দাঁড়ানোসহ নানা ঘটনাতেও মানুষ অবাকই হন। আজকের এই ঘোষণাও যে তার থেকে কোনোও অংশে কম নয় সেটা বলাই যায়।