Header AD
Trending

জাতীয় সম্মানে ভূষিত ‘বাংলার শিক্ষা ৩.০’! রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে আরও এক ঐতিহাসিক স্বীকৃতি

রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগ এবার পেল জাতীয় স্বীকৃতি। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্কুল শিক্ষা দপ্তরের আধুনিক ডিজিটাল পোর্টাল ‘বাংলার শিক্ষা ৩.০’ গভর্ন্যান্স নাও-এর ষষ্ঠ ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন সামিট ও অ্যাওয়ার্ডসএ পুরস্কৃত হয়েছে।

বুধবার সমাজমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এই সুখবর জানান। তিনি লেখেন, ‘এক্সিলেন্স ইন ই-লার্নিং, অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড ডিজিটাল এডুকেশন প্ল্যাটফর্ম’ বিভাগে এই সম্মান পেয়েছে ‘বাংলার শিক্ষা ৩.০’। এর ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগেই রাজ্যের পরিবহণ দপ্তরের ‘অনুমোদন পোর্টাল’ জাতীয় স্তরে পুরস্কার পেয়েছিল। পরপর দুই দিনে বাংলার প্রশাসনিক সাফল্য আরও একবার দেশজুড়ে নজর কাড়ল।

সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছিল এই পোর্টাল। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও সরকার-সহায়তাপ্রাপ্ত স্কুলের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও বিদ্যালয় সংক্রান্ত তথ্য এক জায়গায় ডিজিটালভাবে সংরক্ষণের জন্যই ‘বাংলার শিক্ষা ৩.০’-এর সূচনা। আজ এই পোর্টাল কার্যত রাজ্যের স্কুল শিক্ষাব্যবস্থার একটি বিশাল ডিজিটাল ভাণ্ডার।

এখন আর তথ্য জানার জন্য ফাইল ঘাঁটার প্রয়োজন নেই। মাত্র এক ক্লিকেই জানা যাচ্ছে ছাত্রছাত্রীর উপস্থিতি, শিক্ষকের সংখ্যা, শিক্ষকের ঘাটতি, মিড-ডে মিলের তথ্যসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোভিড পরিস্থিতিতে স্কুল বন্ধ থাকাকালীন এই পোর্টাল ও সংশ্লিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমেই অনলাইন পড়াশোনার ব্যবস্থা সচল রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে আরও উন্নত প্রযুক্তি যুক্ত করে ই-লার্নিং ও মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা হয়েছে।

শিক্ষাদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ডিজিটাল উদ্যোগ শুধু প্রশাসনিক স্বচ্ছতাই বাড়ায়নি, বরং শিক্ষার গুণমান উন্নত করতেও বড় ভূমিকা নিয়েছে। কোন স্কুলে কী প্রয়োজন, কোথায় কী সমস্যা—সবই এখন সহজেই নজরে আসছে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়াও হয়েছে অনেক বেশি দ্রুত ও কার্যকর।

ডিজিটাল গভর্ন্যান্সে এই উদাহরণমূলক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপই ‘বাংলার শিক্ষা ৩.০’ পেল জাতীয় সম্মান। এই পুরস্কার আরও একবার প্রমাণ করল—ডিজিটাল শিক্ষায় বাংলা আজ দেশের অগ্রণী রাজ্যগুলির অন্যতম।