Header AD

ক্রমে স্বাভাবিক হচ্ছে বাংলাদেশ! ওপার বাংলার পর্যটকদের জন্য হোটেলের দরজা খুলল উত্তরবঙ্গ

শেখ হাসিনার সরকার পতনের পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে ক্রমশ ভারত বিরোধিতা বেড়েছে৷ সেই কারণে আর্থিক ক্ষতি স্বীকার করে নিয়েও বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য হোটেলের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল উত্তরবঙ্গে ৷ কিন্তু তারেক রহমান সে দেশের প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসার পর পরিস্থিতি ক্রমে স্বাভাবিক হচ্ছে। তাই প্রায় ১৩ মাস পর সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা জানাল উত্তরবঙ্গ হোটেল মালিকদের সংঘঠন ৷ এই নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে গ্রেটার শিলিগুড়ি হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ৷ সেখানে সংগঠনের সদস্যরা জানান, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সরকার তৈরি হওয়ার পর পরিস্থিতির ক্রমশ উন্নতি হচ্ছে ৷ বাংলাদেশের তরফেও ভারতের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখা যাচ্ছে ৷ সেই কারণেই বাংলাদেশের নাগরিকদের শিলিগুড়ির হোটেলে স্বাগত জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷

২০২৪ সালের আগস্ট মাসে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বাংলাদেশে একাংশের মধ্যে ভারত বিরোধী মনোভাব প্রকাশ্যে আসে। কখনও ভারতের জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ, কখনও আবার ভারতের ভৌগোলিক মানচিত্র পরিবর্তনের হুঁশিয়ারি–এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়াতেও একাধিক কুরুচিকর পোস্ট সামনে আসে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য হোটেল বুকিং বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন উত্তরবঙ্গের হোটেল ব্যবসায়ীরা। তবে ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার গঠনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকারের তরফে ভারতের সঙ্গে নতুন করে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের বার্তা সামনে আসে। ইতিমধ্যেই ভারত সরকার বাংলাদেশিদের জন্য পুনরায় হেলথ ও স্টুডেন্ট ভিসা প্রদান শুরু করেছে। এরপরই নতুন সিদ্ধান্ত নেয় শিলিগুড়ি হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন।

গ্রেটার শিলিগুড়ি হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক উজ্জ্বল ঘোষ সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, “বাংলাদেশ অশান্ত হওয়ার পর ভারতের বিরুদ্ধে যেভাবে বিদ্বেষ ছড়িয়েছিল সেকারণে আমরা এর আগে আলোচনা করে ও ভোটাভুটির মাধ্যমে বাংলাদেশি পর্যটকদের প্রতি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলাম। তবে ১৭ ফেব্রুয়ারি ফের নতুন সরকার গঠন হওয়ায় ধীরে ধীরে ভারতের সঙ্গে ফের একবার সুসম্পর্ক স্থাপনের আশা মিলছে। সেকারণে আমরা সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করে এবং একই প্রক্রিয়ায় ভোটাভুটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি যে সে দেশের পর্যটকদের জন্য আমরা সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছি। আমরা আবার বুকিং নেব ও পরিষেবা দেব। এই বিষয়ে জেলা প্রশাসনকেও জানানো হয়েছে।”

এই সংগঠনের সম্পাদক সন্দীপ কুমার দাঁ বলেন, “৭৫ শতাংশ সদস্য নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। কিন্তু আগামীতে যদি ফের ভারত বিদ্বেষ আমরা দেখতে পাই তবে আবার সেই নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।‘ এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ”আমাদের এই কয়েক মাসে প্রায় ৩ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু সবার আগে দেশ। সেকারণে আমরা এই ক্ষতি মানিয়ে নিচ্ছি।”

হোটেল মালিকদের এই সিদ্ধান্তে পর্যটন মহলে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। সীমান্তবর্তী শহর শিলিগুড়ির অর্থনীতিতে বাংলাদেশি পর্যটকদের বড় ভূমিকা থাকায়, এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। এর ফলে শিলিগুড়ি কিংবা উত্তরবঙ্গে এসে যে কোনও হোটেলেই বাংলাদেশের পর্যটকরা থাকতে পারবেন। এমনটাই জানিয়েছেন গ্রেটার শিলিগুড়ি হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা।