Header AD

শনিবারও উত্তপ্ত বেলডাঙা! জাতীয় সড়ক অবরোধ করে তাণ্ডব, রেলগেট-গাড়ি ভাঙচুর, আক্রান্ত সংবাদমাধ্যম

টানা দ্বিতীয় দিন উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। ঝাড়খণ্ডে পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যমৃত্যুর পর এবার বিহারে পরিযায়ী  শ্রমিককে হেনস্তার অভিযোগ তুলে শনিবারও অশান্ত হল এলাকা। এদিন সকাল থেকেই কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় বেলডাঙার বড়ুয়া মোড় চত্বর। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে চলছে বেনজির তাণ্ডব। একের পর এক গাড়িতে ভাঙচুর, সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের ওপর হামলা এবং রাস্তার ধারের দোকানপাট তছনছ করার অভিযোগ উঠল ক্ষিপ্ত জনতার বিরুদ্ধে। ভেঙে ফেলা হয় রেলের সিগন্যাল। কৃষ্ণনগর থেকে লালগোলার মধ্যে ট্রেন চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে মোতায়েন থাকলেও উত্তেজিত জনতাকে বাগে আনতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনকে। জেলাশাসকের রিপোর্ট তলব CEO-র।

বিক্ষোভকারীরা শনিবার সকাল থেকেই ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ করে রাখে। অভিযোগ, যথেচ্ছভাবে দু’দিকের গাড়ি আটকে দেওয়া হচ্ছে। দাঁড়িয়ে থাকা একাধিক গাড়িতে ইট-পাথর ছোড়া হয়েছে এবং ভাঙচুর চালানো হয়েছে। জাতীয় সড়কের ধারে থাকা সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তিও রেহাই পায়নি। অবরোধকারীদের দাবি, গত শুক্রবার বিহারের ছাপরা এলাকায় পরিযায়ী শ্রমিক আনিসুর শেখকে বাংলাদেশি সন্দেহে হেনস্তা করা হয়। বেধড়ক মারধরে তাঁর বুকের হাড় ভেঙে যায়। সেই খবর গ্রামে আসতেই গ্রামবাসীরা ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন। বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। আহত পরিযায়ী শ্রমিক গ্রামে ফিরলে আ্যম্বুল্যান্স করে তাঁকেও অবরোধস্থলে আনা হয়। পরে চিকিৎসার জন্য তাঁকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন আনিসুর।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা এতটাই যে, খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ছেন সাংবাদিকরা। গতকালের মতো আজও আক্রান্ত হতে হয়েছে একাধিক সাংবাদিক ও চিত্র সাংবাদিককে। ক্যামেরা ভাঙচুর ও হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। সংবাদমাধ্যমের ওপর এই আক্রমণের তীব্র নিন্দা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। গত শুক্রবার বিক্ষোভকারীদের শান্ত করতে গিয়েছিলেন বহরমপুরের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী। আজ পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। সেখানে গিয়ে তাঁকেও বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। বিধায়কের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের রীতিমতো তর্কাতর্কি শুরু হয়ে যায়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বেলডাঙা থানার নাকের ডগাতেই এই দাপাদাপি চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অনেকেরই অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকলেও বিক্ষোভ সামাল দিতে তারা কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এদিকে, উন্মত্ত জনতার তাণ্ডব সামাল দিতে কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদে যাচ্ছে আরপিএফ, আরপিএসএফ। উত্তরবঙ্গ সফরের আগে দমদম এয়ারপোর্ট থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেলডাঙার এই ক্ষোভ ‘বৈধ’ বলেই দাবি করেন। নাম না করলেও কারও ইন্ধনেই যে এই বিক্ষোভ হচ্ছে, সেটাও স্পষ্ট করেন তিনি।