Header AD

ঝাড়খন্ডে ‘খুন’ বাংলার পরযায়ী শ্রমিক, প্রতিবাদে উত্তাল বেলডাঙা, মৃতের পরিবারের পাশে রাজ্য সরকার

বিজেপি শাসিত রাজ্য ঝাড়খন্ডের বিশ্রামপুরে পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রবল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা এলাকায়। শুক্রবার মৃত শ্রমিকের দেহ সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে রেললাইন আটকে বিক্ষোভ দেখায় উত্তেজিত জনতা। অবরুদ্ধ করা হয় ১২ নম্বর জাতীয় সড়কও। টায়ার জ্বালিয়ে চলে অবরোধ। উত্তাল পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশালপুলিশ বাহিনী। বিক্ষোভের জেরে রেল ও সড়ক পথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে। আটকে থাকে লালগোলা থেকে শিয়ালদহগামী মেমু লোকাল। অবরোধের জেরে বেলডাঙা স্টেশনে আটকে পড়ে লালগোলাগামী রানাঘাট লালগোলা মেমু লোকালও। যার ফলে নাকাল হন যাত্রীরা। অশান্তির খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যান কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। এদিকে এই ঘটনায় মৃতের পরিবারের পাশে থাকার বার্তা রাজ্য সরকার। মৃতের পরিবারকের আর্থিক সাহায্য ও চাকরির আশ্বাস প্রশাসনের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, ঝাড়খন্ডের বিশ্রামপুরে ফেরিওয়ালা হিসেবে কাজ করতেন বেলডাঙার সুজাপুরের বাসিন্দা মহম্মদ আলাউদ্দিন শেখ। গত বৃহস্পতিবার তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পৌঁছনোর পরই এই ঘটনার প্রতিবাদে শিয়ালদহ লালগোলা শাখার মহেশপুরে রেল লাইনে বসে পড়ে উত্তেজিত জনতা। লাইনে ফেলে দেওয়া হয় বাঁশ। স্বাভাবিকভাবেই একের পর এক দাঁড়িয়ে পড়ে লোকাল ও এক্সপ্রেস ট্রেন। এদিকে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ করে একদল উত্তেজিত জনতা। রাস্তার উপর একের পর এক জ্বালানো হয় টায়ার। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। উত্তেজিত জনতাকে বুঝিয়ে বিক্ষোভ তোলার চেষ্টা করা হলেও বিশেষ লাভ হয়নি। পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়ায় বিক্ষুব্ধরা। ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। সড়ক পথে একের পর এক গাড়ি আটকে পড়ে। ফলে তীব্র যানজটে প্রবল ভোগান্তির শিকার হন যাত্রীরা। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, BJP শাসিত রাজ্যে বার বার আক্রান্ত হচ্ছেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষরা। তাঁদের দাবি, খুন করা হয়েছে ওই যুবককে। মুখ্যমন্ত্রী এসে তাঁদের সঙ্গে দেখা না করা পর্যন্ত বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন তাঁরা।

এদিনের ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। কথা বলেন মৃতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। এ বিষয়ে উত্তরবঙ্গে যাওয়ার আগে দমদম বিমানবন্দর থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বলেন, “প্রতিদিন পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচার হচ্ছে, আক্রমণ হচ্ছে যেখানে ডবল ইঞ্জিন সরকার বিজেপি রয়েছে। তাঁরাই এখান মানুষের নাম কাটছে আর তারা এখানে আমাদের লোকেদের পিটিয়ে খুন করছে। এর থেকে ন্যাক্কারজনক ঘটনা আর কিছু হতে পারে না।” মৃতের পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় বিধায়ক তাঁদের জন্য কিছুই করে না ৷ এমনকী এলাকার মানুষের অভাব-অভিযোগ নিয়ে বিধানসভাতেও আজ পর্যন্ত কোনও বক্তব্য রাখেননি বিধায়ক ৷”

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন নিহতের পরিবারের পাশে আছে রাজ্য। মৃতের পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরি এবং ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক নীতিন সিংঘানিয়া। এদিকে, এই আশ্বাস পাওয়ায় ৭ ঘণ্টা পর উঠল অবরোধ, গড়াল ট্রেনের চাকা। ১২ নম্বর জাতীয় সড়কেও উঠল অবরোধ।