Header AD

আঙুলে চিড় নিয়েই বাঙালির প্রথম বিশ্বজয়! টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি ৬ মারার কৃতিত্ব ফিনিশার রিচার

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, ঝুলন গোস্বামীরা যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন সেই স্বপ্নপূরণ করলেন শিলিগুড়ির ২২ বছরের যুবতী  রিচা ঘোষ। প্রথম বাঙালি বিশ্বকাপ চাম্পিয়ন। । ফাইনালে ৪৪ তম ওভারে ব্যাট করতে এসে তিনি ২৪ বলে ৩৪ রানের ইনিংসটা না খেললে, ২৯৮ রানে পৌঁছতে পারত না টিম ইন্ডিয়া। এই ইনিংসের রহস্য কী? ম্যাচ শেষে স্মিত হেসে রিচা বললেন, “সবাই আমার উপর ভরসা রেখেছিল। সবাই বলছিল, আমি মারতে পারব। সেই ভরসাই আমার বিশ্বাস বাড়িয়েছে।” ভারতীয় মহিলা দলের ফিনিশার। বড় শট নিতে পারেন। নিজ গুণে ভারতীয় দলের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছেন।

মহেন্দ্র সিং ধোনির প্রবল ভক্ত। আগে মিডিয়াম পেস বোলিং করতেন। সঙ্গে উইকেটকিপিংও চলত। ধোনিকে দেখেই পেস বোলিং ছেড়ে পাকাপাকিভাবে উইকেটকিপিং শুরু। প্রথমে ওপেন করতেন। তৎকালীন বঙ্গ কোচ শিবশঙ্কর পাল বুঝেছিলেন, টিমের জন্য মিডল অর্ডার একেবারে পারফেক্ট স্লট রিচার। কারণ পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, নেমেই ছক্কা হাকানোর সহজাত প্রতিভা রিচার মধ্যে ছোট থেকেই ছিল। রিচাকে আরও একটা ব্যপার খুব টানত। সেটা মহেন্দ্র সিং ধোনির ম্যাচ শেষ করে আসার ক্ষমতা। রিচার মোবাইলে ধোনির একগুচ্ছ ভিডিও। সে’সব দেখে প্রেরণা খোঁজেন রিচা। বঙ্গ উইকেটকিপার ব্যটারকে ইতিমধ্যে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের ‘ধোনি’ বলা শুরু হয়ে গিয়েছে। ঠিক ধোনির মতোই অবলীলায় ছক্কা মারতে পারেন। এবারের বিশ্বকাপে ছয় মারার লিস্টেও সবার আগে। নভি মুম্বইয়ের ডিওয়াই পাতিল স্টেডিয়াম থেকে ওয়াংখেড়ের দূরত্ব প্রায় পয়ত্রিশ কিলোমিটার। চোদ্দো বছর আগে ২ এপ্রিল ওয়াংখেড়েতে পুরো দেশকে এক মায়াবী রাত উপহার দিয়েছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। সেই ধোনির বিশ্বজয়ের শহরই সাক্ষী হয়ে থাকল ধোনির শিষ্যার এক দর্পের ইনিংসের।

সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দু’টি এবং ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দু’টি ছক্কা। ভারতের বিশ্বজয়ের নেপথ্যে রিচা ঘোষের এই চার ছক্কার অবদান খুব কম নয়। ব্যাটার রিচার প্রশংসা হলেও উইকেটরক্ষক রিচার সমালোচনা হচ্ছে। বিশ্বকাপে একাধিক ক্যাচ ফেলেছেন। অন্তত তিনটি স্টাম্পড আউট করার সুযোগও নষ্ট করেছেন। কিন্তু জানা গেল, রিচা আঙুলে চোট নিয়েই সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল খেলেছেন। ‘ওর বাঁহাতের মধ্যমায় চিড় রয়েছে। হাতের ব্যথা নিয়েই নিজের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছে। ওই ব্যথা নিয়েই বড় বড় ছয় মেরেছে। কতটা মনের জোর থাকলে এমন খেলা যায়,’ বলেন শিবশঙ্কর। রিচার ক্রিকেটজীবনে তাঁর বাবা মানবেন্দ্র ঘোষের অবদানও কম নয়। তাঁর হাতেই মূলত রিচার ক্রিকেটে হাতেখড়ি। শিলিগুড়ির বাড়িতে মেয়ের জন্য নেটের ব্যবস্থাও করেছিলেন। মেয়ের জন্য নিজের কাজকর্ম সব ছেড়ে দিয়েছেন।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ, মহিলাদের প্রিমিয়ার লিগ, বিশ্বকাপ— পর পর তিন বছরে তিনটি বড় ট্রফি জেতা হয়ে গেল রিচার। রয়েছে এশিয়ান গেমসের সোনা, কমনওয়েলথ গেমসের রুপোও। ২২ বছরের মধ্যেই একের পর এক সাফল্য ধরা দিয়েছে। আগামী বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবেন সব ঠিক থাকলে। তত দিনে অভিজ্ঞতা এবং পরিশ্রম নিশ্চিত ভাবে আরও দক্ষ করে তুলবে বাংলার বিশ্বজয়ীকে। এখন থেকেই আশায় বুক বাঁধছেন শিলিগুড়ির প্রতিবেশি থেকে গোটা ভারত।