Header AD

ফের ভিনরাজ্যে বাঙালি হেনস্তা! বাংলা বলায় ছত্তিশগড়ে ট্রেন থেকে নামানো হল তিন পড়ুয়াকে

বিগত কয়েক মাস ধরে বাংলায় কথা বলার অভিযোগে ভিনরাজ্যে বাঙালি হেনস্তার খবর নিত্যদিন সংবাদের শিরোনামে উঠে আসছে। এবার ফের ভিনরাজ্যের হেনস্তার শিকার হল তিন বাঙালি কিশোর। রুজির টানে গুজরাতে যাচ্ছিল পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের তিন কিশোর। পরিবারের অভিযোগ বাংলায় কথা বলার কারণে ছত্তিশগড়ে ট্রেন থেকে নামিয়ে আটক করা হয়েছে তাদের।

জানা যাচ্ছে, গুজরাতে পাড়ি দিয়েছিল পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রাম এলাকার তিন কিশোর। তাদের মধ্যে দুজন নবম শ্রেণির ছাত্র। ছত্তিশগড়ে তাদের তিনজনকে আটক করেছে রেল পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যায় এই খবর বাড়িতে আসার পর থেকেই উদ্বিগ্ন পরিবারের লোকজন। পরিবারের অভিযোগ, বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণেই তিনজনকে ট্রেন থেকে নামিয়ে আটক করা হয়েছে। এই অভিযোগ পেয়েই সুর চড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে ওই দলে থাকা এক যুবক ফোনে জানায়, নাবালক বলেই কাজে যাওয়ার সময় তিনজনকে আটক করা হয়। দলের বাকিদের বয়সের প্রমাণপত্র দেখে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

সূত্রের খবর, কেতুগ্রামের বাসিন্দা বছর ষোলোর কার্তিক দাস বহরান জয়দুর্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র । ওই পাড়ার আরও দুই কিশোর রাকেশ দাস ও রতন দাসের সঙ্গে সুরাটের উদ্দেশে পাড়ি দিয়েছিল। শুক্রবার বাড়ি থেকে বের হয়েছিল সুরাটের একটি পাঁউরুটি কারখানায় কাজে যোগ দিতে। রাকেশ ও কার্তিকের স্কুলের সহপাঠি। রতন অবশ্য পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে। মোট ৯ জন যাচ্ছিল সুরাটে। কিশোরদের পরিবারের দাবি, আগেও মাস দেড়েক আগে তাঁরা সুরাট গিয়েছিল। দুই সপ্তাহ আগে বাড়ি ফেরে। ছুটি শেষে তাঁরা ফের কাজে যোগ দিতে যাচ্ছিল। এলাকার পঞ্চায়েত প্রধানের অভিযোগ, “আমরা খবর নিয়ে জানতে পেরেছি ছত্তিশগড়ে রেলপুলিশ ওদের সঙ্গে কথা বলার সময় হিন্দি বলতে পারেনি। বাংলা বলার অপরাধে ওদের আটকে রাখা হয়েছে।” এনিয়ে কেতুগ্রামের বিধায়ক শেখ শাহনাওয়াজ বলেন, “বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। আমি প্রশাসনিক স্তরে কথা বলছি। যাতে ওদের নিরাপদে উদ্ধার করে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে আসা যায়।”