Header AD

SIR মামলায় বড় পদক্ষেপ রাজ্যের ! সুপ্রিম শুনানিতে ভার্চুয়ালি যোগদানের সম্ভবনা মুখ্যমন্ত্রীর

নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শুনানি ও তথ্য যাচাইয়ের কাজ শেষ করতে না পারায় এসআইআর (SIR in West Bengal) সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৪ তারিখ পর্যন্ত এই কাজ চলবে। আজ, সোমবার আবারও দেশের শীর্ষ আদালতে এসআইআর মামলার শুনানি রয়েছে। গত বুধবারের মতো এদিনও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) উপস্থিত থাকবেন বলে জানা যাচ্ছে—তবে সশরীরে নয়। শুনানিতে ভার্চুয়ালি তাঁর অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। এই শুনানির আগেই রাজ্যের তরফে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের অভিযোগের ভিত্তিতে নবান্ন কমিশনকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, এসআইআর কাজের জন্য পর্যাপ্ত গ্রুপ-বি আধিকারিক সরবরাহ করা হবে। রাজ্য সরকারের এই ঘোষণায় কমিশন নতুন করে চাপে পড়েছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে কমিশন নিজেদের নেওয়া সিদ্ধান্ত বারবার পরিবর্তন করছে এবং সময়সীমা ক্রমাগত পিছিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর মুখ্যমন্ত্রীর উত্থাপিত দাবিগুলিও মানতে বাধ্য হচ্ছে কমিশন। ফলে এসআইআর সংক্রান্ত বিষয়ে শীর্ষ আদালত পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন গোটা দেশের নজর।

উল্লেখ্য, গত বুধবার সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী অভিযোগ করেছিলেন যে, রাজ্য সরকার এসআইআর কাজের জন্য পর্যাপ্ত গ্রুপ-বি অফিসার দেয়নি, যার ফলে ভিন রাজ্য থেকে আধিকারিক আনতে হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে আদালত রাজ্য সরকারকে অফিসারদের তালিকা জমা দিতে নির্দেশ দেয়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চ জানায়, কতজন গ্রুপ-বি আধিকারিক রাজ্য সরকার দিতে পারবে, তা সোমবারের মধ্যে কমিশনকে জানাতে হবে। সেই নির্দেশ মেনেই শনিবার নবান্ন কমিশনকে জানিয়ে দেয় যে, এসআইআর কাজের জন্য রাজ্য সরকার মোট ৮,৫০৫ জন গ্রুপ-বি আধিকারিক দিতে সক্ষম।

এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন ডোমিসাইল সার্টিফিকেট বা স্থায়ী বাসিন্দার শংসাপত্রকে প্রামাণ্য নথি হিসেবে মান্যতা দিতে বাধ্য হয়েছে। আগের শুনানিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যুক্তি কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। সুপ্রিম কোর্টও পর্যবেক্ষণে জানায়, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-র অজুহাতে কোনও যোগ্য ভোটারের নাম যেন তালিকা থেকে বাদ না যায়—সে বিষয়ে কমিশনকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

এই পরিস্থিতিতে, আপাতত ব্যাকফুটে থাকা নির্বাচন কমিশন সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর সামনে কী যুক্তি তুলে ধরে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্য ও দেশবাসী।