“ডবল ইঞ্জিন সরকার মানুষের ভোটে নাম কাটছে। যেখানে বিজেপি রয়েছে সেখানে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের পিটিয়ে মারছে। বেলডাঙার ঘটনা ন্যাক্কারজনক। এখানে কার কার প্ররোচনা রয়েছে আপনারা বুঝতেই পারছেন। সংখ্যালঘুদের ক্ষোভটা স্বাভাবিক। এরা ইচ্ছে করে বাংলায় দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছে। এটা বিজেপি করছে।” শুক্রবার উত্তরবঙ্গে যাওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বেলডাঙার ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এর সঙ্গে এদিন এস আই আর নিয়েও কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে চড়া সুরে আক্রমণ করেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান । তিনি বলেন মানুষের জন্য, “গণতন্ত্র রক্ষার জন্য আমাদের লড়াই জারি থাকবে। আগামী দিনে এই লড়াই আরও জোরদার হবে।”
উল্লেখ্য শুক্রবার দুদিনের সফরে উত্তরবঙ্গে উড়ে গেলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। বিমানে ওঠার আগে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। সেখানে ফের SIR প্রক্রিয়া নিয়ে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একযোগে সুর চড়ান মুখ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার কমিশন ঘোষণা করেছে , এস আই আর হিয়ারিংয়ে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড গ্রাহ্য হবে না। সেই প্রসঙ্গ তুলে এদিন মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন কেন হিয়ারিংয়ে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড গ্রাহ্য হবে না? সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেওয়ার পরও আধারকার্ড নথি হিসাবে গ্রহণ করছে না। অন্য রাজ্যে গ্রাহ্য হলেও আমাদের রাজ্যে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট গ্রাহ্য করছে না। ” এরপরই তিনি কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন মালদায় ৯০ হাজার মানুষের নাম বাদ দিয়েছে। অনেক আদিবাসী সম্প্রদায়ের নাম বাদ দিয়েছে। সংখ্যালঘু, মতুয়া, রাজবংশীদের নাম বাদ যাচ্ছে। সংখ্যালঘুদের ক্ষোভটা স্বাভাবিক।” নির্বাচন কমিশনকে তাঁর পরামর্শ “চেয়ারের মর্যাদা ও পরম্পরা রক্ষা করুন। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করুন।” পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, আমরা আমাদের মতো করে চেষ্টা করছি। আশা করি মানুষ বিচার পাবে।”
প্রসঙ্গত, এদিন অর্থাৎ শুক্রবার ১৬ জানুয়ারি তিনি শিলিগুড়ি লাগোয়া মাটিগাড়া এলাকায় প্রস্তাবিত ‘মহাকাল মহাতীর্থ’ তথা মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস করবেন। মাটিগাড়ার কর্মসূচি শেষ করে মুখ্যমন্ত্রী রওনা দেবেন জলপাইগুড়ির উদ্দেশে। সফরের দ্বিতীয় দিন, অর্থাৎ ১৭ জানুয়ারি, সেখানে কলকাতা হাই কোর্ট-এর সার্কিট বেঞ্চের নতুন ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিত থাকার কথা। ওই অনুষ্ঠানে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত উপস্থিত থাকতে পারেন বলে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা চলছে।





