ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা (SIR) নিয়ে কেন্দ্র- রাজ্য ও কমিশন তরজা তুঙ্গে। এই আবহে মঙ্গলবার দিল্লির চাণক্যপুরীর বঙ্গভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে একযোগে নিশানা করে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বলেন, “এসআইআর এর নামে বাংলায় সুপার এমার্জেন্সি চলছে। কমিশনকে কাজে লাগিয়ে বাংলা দখলের চক্রান্ত করছে বিজেপি!” পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন “বাংলাকে আলাদা করে টার্গেট করা হচ্ছে।” দিল্লি থেকে বিজেপি এবং কমিশনকে একযোগে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তাঁর হুঙ্কার, “সাহস থাকলে রাজনৈতিক এবং গণতান্ত্রিক ভাবে লড়াই করুন।”
সাংবাদিক সম্মেলনের শুরুতেই উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “দিল্লির সংবাদমাধ্যমের তো জানার কথা নয়, বাংলায় কী ঘটছে!”এরপরই বাংলায় অপরিকল্পিত এসআইআর নিয়ে সাংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আমি কমিশনকে ৬টি চিঠি লিখেছি। জবাব পাইনি। সুপ্রিম কোর্টের কথাও মানছে না কমিশন। কোনও পথ খোলা ছিল না। আমি বিচারব্যবস্থাকে সম্মান করি। মামলা বিচারাধীন। কিছু বলতে চাই না। তবুও বলছি, শেষ এসআইআর হয়েছে ২০০২ সালে, তারপর ২৪ বছর কেটে গিয়েছে। এবার নির্বাচন। তার আগে এসআইআর হচ্ছে। কোনও প্রস্তুতি, পরিকল্পনা নেই। পরিকাঠামো নেই। ৪টি রাজ্যে ভোট। শুধু বিরোধী রাজ্যে এসআইআর হচ্ছে। অসমে হচ্ছে না। AI ব্যবহার করে ৫৮ লক্ষের নাম বাংলায় বাদ দিয়েছে। আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনও সুযোগ দেয়নি। বিজেপি সীমা খান্নাকে বসিয়েছে। ইআরও-র সই ছাড়াই নাম বাদ দিয়েছে। এটা বেআইনি।”

এদিন সাংবাদিক বৈঠকে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি নিয়েও সরব হন তৃণমূল সুপ্রিমো। জীবিত ভোটারদের দেখিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তিনি। বলেন “তথ্য অসংগতির তালিকা দিতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। তারা নাম বদলে দিচ্ছে। বিজেপি নেতাদের অবজার্ভার করে পাঠাচ্ছে। আমি সবাইকে দোষ দিচ্ছি না। আমি কমিশনকে সম্মান করি। তবে কয়েকজন তোতাপাখির মতো কাজ করছেন।” তাঁর অভিযোগ, “অমর্ত্য সেনকে তলব করেছে। মায়ের সঙ্গে নাকি বয়সের ফারাক! জয় গোস্বামীকে ডেকেছে। তিনি মামলাও করেছেন সুপ্রিম কোর্টে। ডাক্তার, শিক্ষকদেরও ডেকেছে। আমার বিধানসভায় প্রায় ২ লক্ষা মতো ভোটার রয়েছে। তথ্যে অসংগতি দেখিয়ে ৪৫ হাজারের নাম বাদ দিয়েছে। ইআরওরা জানেই না। আমি বলেছি কমিশনকে, আপনারা হত্যাকারী। গণতন্ত্রে কে সরকার নির্বাচন করে, কমিশন করে নাকি? মাইক্রো অবজার্ভাররা জমিদারি ফলাচ্ছে। ভুল তথ্য দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১৫০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। কেউ আত্মহত্যা করেছেন, কেউ অসুস্থ।”
এর পাশাপাশি বাইরের রাজ্য থেকে বাংলায় ভোটার তালিকায় নাম তোলার বিষয়েও সরব হন তিনি। বলেন, গাজিয়াবাদ থেকে ভোটার আনছে। বাংলার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে। মতুয়াদের ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে। সংখ্যলঘুদের টার্গেট করছে। বাংলায় ৩৩ শতাংশ সংখ্যালঘু রয়েছে। বলুন, তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেবেন!
এরপরই সোমবার কমিশনের দপ্তরে বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করেন তৃণমুল নেত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, জ্ঞানেশ কুমার থ্রেট করেছেন। দুর্ব্যবহার করেছেন। অভিষেকের দিকে আঙুল তুলে কথা বলছিলেন। আমি টেবিল চাপড়ে বললাম, চিৎকার করবেন না। কাল আপনি চেয়ারে নাও থাকতে পারেন।” আত্মপ্রত্যয়ের সুরে তিনি বলেন, “নির্বাচনে তৃণমূল একাই লড়াই করবে। এবার আরও বেশি ভোটে জিতব। ভোটে জিতে দিল্লি আসব।” এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ এসআইআর-এ ক্ষতিগ্রস্তদের পরিজনরাও।





