Header AD

ভোটার তালিকা নিয়ে প্রহসন বিজেপির! মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় ফের কমিশনের দপ্তরে তৃণমূল

নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত এসআইআর ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস বনাম কমিশনের সংঘাত দিনের পর দিন ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে। সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশের পরেও নির্বাচন কমিশন হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশ জারি রেখেছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের। আরও বেশ কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বিকেলে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে যান রাজ্যের শাসকদলের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি। বিকেল প্রায় পাঁচটা নাগাদ বিবাদী বাগে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কার্যালয়ে পৌঁছে তাঁরা নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কড়া প্রশ্ন তোলেন এবং লিখিতভাবে অভিযোগ জমা দেন।

শাসকদলের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেওয়ার পরেও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নির্দেশ পাঠানো বন্ধ করেনি কমিশন। লিখিত নোটিসের বদলে ডিজিটাল বার্তায় প্রশাসনিক চাপ তৈরির চেষ্টা চলছে। এদিন এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন, লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্র, বিধায়ক পার্থ ভৌমিক, সাংসদ বাপি হালদার এবং মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা। নির্বাচন কমিশনকে কটাক্ষ করে মহুয়া মৈত্র প্রশ্ন তোলেন, “শুধু হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশ দেওয়া নয়, মাইক্রো অবজার্ভাররা কোন অধিকারে বিডিও-দের কাছ থেকে তথ্য চাইছেন, বা কেন তাঁদের লগইন আইডি চাওয়া হচ্ছে?” মাইক্রো অবজারভার নিয়োগের আইনি ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “রাজ্যের সিইওকে কিছু বলতে গেলেই তিনি বলেন নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে করতে হচ্ছে। অথচ গত ১৯ ডিসেম্বর রাজ্যের সিইও দফতর থেকেই ইসিআই-এ মাইক্রো অবজারভারদের তালিকা পাঠানো হয়েছিল”।

আদালতের নির্দেশে ২৪ তারিখ লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ও আনম্যাপড তালিকা প্রকাশ করলেও বিভ্রান্তি তৈরি করতে দুটো তালিকাকে একসঙ্গে মিশিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন শাসকদল।তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের অভিযোগ, রাজ্যে চলা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় কমিশন আইন ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করে সাধারণ ভোটারদের হয়রানি করছে। তাঁদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে যাঁরা আইনত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন, সেই নির্বাচনী আধিকারিকদের ক্ষমতা কার্যত খর্ব করা হয়েছে। পরিবর্তে ‘মাইক্রো অবজারভার’ নামে কিছু পর্যবেক্ষকের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা তুলে দেওয়া হয়েছে, যা আইনি কাঠামোর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

জনপ্রতিনিধিদের কাছে আসা অভিযোগ অনুযায়ী, নির্বাচনী নথিভুক্তিকরণ আধিকারিকদের সিদ্ধান্তের পরেও ওই পর্যবেক্ষকরা তা আটকে দিচ্ছেন অথবা বদলে দিচ্ছেন। এর ফলে গোটা প্রক্রিয়াই প্রশ্নের মুখে পড়ছে এবং প্রশাসনিক কাঠামোর স্বচ্ছতা নষ্ট হচ্ছে।তৃণমূলের নেতাদের বক্তব্যে স্পষ্ট, এই লড়াই শুধু প্রশাসনিক পদ্ধতি নিয়ে নয়, বরং ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ ঘিরে। সাংসদ বাপী হালদারের কথা অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন ধীরে ধীরে রাজ্য প্রশাসনের এক্তিয়ার খর্ব করতে চাইছে।

অন্যদিকে কমিশনের যুক্তি, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ। তৃণমূল বিধায়ক পার্থ ভৌমিক স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, কমিশনই শেষ কথা নয়। আদালতের নির্দেশের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। এরপরও লিখিত নির্দেশ ছাড়া কমিশন কোনও প্রশাসনিক পদক্ষেপ করলে আইনি পথে তার মোকাবিলা করা হবে বলেও জানান তৃণমূলের প্রতিনিধি দল।

এদিনের বৈঠক থেকে মানবিকতার প্রশ্নও তুলে ধরেছে শাসকদল। শাসকদলের রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন বলেন, কমিশনের দৃষ্টিভঙ্গি কেবল আমলাতান্ত্রিক হলে চলবে না। তাঁর প্রশ্ন, “এখন যে প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে, তা কি আদৌ ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করা সম্ভব?” সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধ হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, “বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশনের সিইও সমস্ত বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিচার করবেন বলেই আমরা আশা রাখছি” ।