Header AD

পর্ণশ্রীতে সঙ্গীতশিল্পীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার! দেহে একাধিক ক্ষত চিহ্ন, ঘটনায় আটক আয়া

সঙ্গীতশিল্পীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে বেহালার পর্ণশ্রীর আবাসনে। ঘরের ভিতর থেকেই উদ্ধার হয়েছে বছর ৬৫-র সঙ্গীতশিল্পী অনিতা ঘোষ-র রক্তাক্ত দেহ। জানা গিয়েছে তিনি দূরদর্শনের সঙ্গীত শিল্পী ছিলেন। ৬৫ বছরের ওই বৃদ্ধার দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে খবর। তাঁকে কোনও ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিতা খুন করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেহ উদ্ধার করেছে। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। কিন্তু ঠিক কীভাবে মৃত্যু হল বৃদ্ধার? নেপথ্যে কে বা কারা সেটা তখনও স্পষ্ট ছিল না। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছিল, খুনের আগে ফ্ল্যাটে লুটপাট চালানো হয়েছে। গোটা ঘটনার সঙ্গে আয়ার যুক্ত থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি তদন্তকারী অফিসারেরা। কিন্তু পরবর্তীতে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সবটা স্বীকার করে নিয়েছেন এক আয়া।

পর্ণশ্রী থানার অন্তর্গত শক্তিসঙ্ঘ ক্লাবের পাশে একটি আবাসনের দোতলায় থাকতেন মৃত অনিতা ঘোষ ও তাঁর স্বামী। সেই ফ্ল্যাট থেকেই ওই মিহিলার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। অনিতার স্বামী অরূপ ঘোষের বয়স ৭২। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অরূপ ঘোষ দূরদর্শন ও অল ইন্ডিয়া রেডিওতে চাকরি করতেন। তাঁর বাড়িতে লোকজনের আনাগোনা সেভাবে ছিল না। তবে গত ৭-৮ বছর ধরে তিনি ডিমেনশিয়াতে আক্রান্ত। ফলে কাউকে চিনতে পারতেন না। শয্যাশায়ী ছিলেন। তাঁর দেখাশোনার জন্য বাড়িতে ২ জন আয়া ও এক জন রান্নার লোক ছিল। তাঁরাই কেবল আসা যাওয়া করতেন। জানা যাচ্ছে এই বৃদ্ধ দম্পতির ছেলেরা থাকেন মহেশতলায়।

মর্মান্তিক এই ঘটনার বিষয়ে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, অনিতা ঘোষ মৃত্যুর আগে ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার করেছিলেন। প্রতিবেশীরা ছুটে গিয়ে দরজা ধাক্কা দিয়ে দেখেন, ভিতর থেকে দরজা বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে সঞ্জু নামে এক আয়া দরজা খুলে প্রতিবেশীদের বলতে থাকেন, কেউ একজন অনিতা দেবীকে খুন করে পালিয়ে গিয়েছে। তাঁর কথায় প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। তাঁকে আটক করে রাখেন প্রতিবেশীরা। অভিযোগ, তাঁর সঙ্গে একটি ব্যাগ ছিল, সেই ব্যাগের মধ্যে বেশ কিছু সোনার গয়না এবং নগদ টাকা ছিল। পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে ওই মহিলাকে এবং আরও দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সঞ্জু এদিন স্বীকার করে নিয়েছেন যে তিনি এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। কিন্তু এই ঘটনার পিছনে কি শুধুমাত্র ডাকাতির উদ্দেশ্য ছিল নাকি অন্য কোনও কারণ জড়িত? তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।