শুক্রবার সকালে রাজ্যের একাধিক জেলায় ফের ছড়াল বোমাতঙ্ক। হাওড়া, আসানসোল, বাঁকুড়া এবং কাটোয়া-সহ বিভিন্ন এলাকার পোস্ট অফিসে পৌঁছয় হুমকিমূলক ই-মেল। সেখানে দাবি করা হয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটবে। মেলে সকাল ১১টার মধ্যে অফিস খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ‘পবিত্র শুক্রবারই আসল জিহাদ’—এই মন্তব্যও লেখা ছিল বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
হুমকি পাওয়ার পরই তড়িঘড়ি সংশ্লিষ্ট পোস্ট অফিসগুলি খালি করে দেওয়া হয়। খবর দেওয়া হয় পুলিশ ও বম্ব স্কোয়াডকে। শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় পোস্ট অফিস ও আদালতে একই ধরনের হুমকি মেল আসছে। কোথাও সায়ানাইড ও আরডিএক্স রাখা আছে বলে দাবি করা হয়েছে, আবার কোথাও নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করে বিস্ফোরণের আশঙ্কা জানানো হয়েছে। তবে প্রতিবারই তল্লাশিতে কিছুই মেলেনি। শুক্রবারও একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটে। সকাল এগারোটার কিছু আগে হাওড়া মেন পোস্ট অফিস-সহ আসানসোল, বাঁকুড়া ও কাটোয়ার ডাকঘরে একই ধরনের বার্তা পৌঁছয়। সেখানে দাবি করা হয়, আরডিএক্স ও সায়ানাইডের মিশ্রণে তৈরি বিস্ফোরক পোস্ট অফিসের ভিতরে রাখা হয়েছে এবং দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে বিস্ফোরণ ঘটবে।
হাওড়া পোস্ট অফিস কর্তৃপক্ষ সঙ্গে সঙ্গে বম্ব স্কোয়াডকে খবর দেয়। যদিও আসানসোলের কিছু আধিকারিক প্রথমে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে চাননি, তবুও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরপর চার দিন ধরে রাজ্যজুড়ে এই ধরনের ভুয়ো হুমকি ঘিরে প্রশ্ন উঠছে—এর পেছনে কারা রয়েছে? পরিকল্পিতভাবে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা, নাকি বড় কোনও নাশকতার ছক? তদন্তকারীরা ঘটনার উৎস ও উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখছেন।





