মহারাষ্ট্রের সাতারায় ‘ধর্ষিতা’ চিকিৎসক শেষ রাতে ঠিক কী করেছিলেন তা একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ প্রকাশ্য এনে ব্যাখ্যা করেছেন হোটেল কর্তৃপক্ষ। এই ফুটে যে দেখা যাচ্ছে আত্মঘাতী চিকিৎসক একা একাই হোটেলের ঘরে ঢুকেছিলেন। কেউ তাঁর সঙ্গে ছিলেন না। উল্লেখ্য, এই হোটেলের ঘরেই ঝুলন্ত অবস্থায় ওই তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়েছিল। বাঁ হাতের তালুতে লেখা সুইসাইড নোটে তিনি
দাবি করেছেন, এক পুলিশ আধিকারিক তাঁকে পাঁচ মাস ধরে চার বার ধর্ষণ করেছেন। এ ছাড়াও বাড়িওয়ালার পুত্রের নামে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও করেছেন। তাঁদের ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তরুণী চিকিৎসকের এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতর। মহারাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়ংকর অবনতি হয়েছে বলে বিজেপি সরকারকে তুলোধোনা করতে থাকে বিরোধীরা।
অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন আদৌ চিকিৎসক আত্মঘাতী হয়েছেন, নাকি নেপথ্যে অন্য কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে? এর পরেই হোটেল কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের হাতে তুলে দেন বলে জানা যাচ্ছে।
ফুটেজে দেখা গিয়েছে, গত ২৩ অক্টোবর হোটেলের রিসেপশনে ‘চেক-ইন’ সংক্রান্ত কাজ মিটিয়ে নিজের ঘরের দিকে গিয়ে একাই ঘরে প্রবেশ করেন তরুণী। জানা গিয়েছে, সে দিন সন্ধ্যায় বাড়িওয়ালার বাড়িতে পুজোর অনুষ্ঠানে গিয়ে বাড়িওয়ালার পুত্রের সঙ্গে তাঁর কথা কাটাকাটি হয়। হোটেলে ফিরে তিনি রাতেই আত্মহত্যা করেন।
ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ হিসাবে গলায় ফাঁস লেগে শ্বাসরোধের উল্লেখ রয়েছে। ফরেন্সিক তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট এখনও আসেনি। বাড়িওয়ালার এই পুত্রের বিরুদ্ধেই মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন তরুণী। অভিযুক্তের অবশ্য পাল্টা দাবি, তরুণী তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পুলিশ সূত্রে খবর , ঘটনার রাতে বাড়িওয়ালার পুত্রকে একাধিক মেসেজ করেছিলেন তরুণী। এক বার ফোনও করেছিলেন। তবে সেই ফোন ধরা হয়েছিল কি না, স্পষ্ট নয়। ।
এদিকে তরুণীর ফোনের কল লিস্ট ঘেঁটে পুলিশ জানতে পেরেছে, ধর্ষক হিসেবে যে পুলিশ অফিসারের নাম তরুণী হাতে লিখে রেখে গিয়েছিলেন তাঁর সঙ্গে শেষ বার মার্চ মাসে কথা হয়েছে।
ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করছেন তদন্তকারীরা।





