বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ! একাধিক এলাকা প্লাবিত। উদ্ধারকার্য চালাচ্ছে প্রশাসন। এই আবহে গত রবিবার কেন দুর্গাপুজোর কার্নিভাল বাতিল করা হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছিল বিরোধীরা। দু’দিন উত্তরবঙ্গে দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়ে, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে এবার সেই ‘রাজনীতির’ জবাব দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “কার্নিভাল নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে। কার্নিভাল বাংলার গর্ব। এতগুলো ক্লাব আশা করেছিল ওদের কোনও মূল্য নেই? ওই দিন সমস্ত ব্যাবস্থা করা হয়ে গিয়েছিল। ইউনিসেফ থেকে অনেক বিদেশি অতিথি এসেছিলেন। বাতিল করা সম্ভব?”
তাছাড়া তিনি গেলে উদ্ধারকার্যে প্রভাব পড়ত বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশ ব্যস্ত হয়ে পড়ত তাঁকে নিয়ে। কারণ দুর্যোগের সময় প্রধান কাজ দুর্গতের পাশে দাঁড়ানো। তাঁর প্রশ্ন, “সেদিন যদি আমরা আসতাম এসে কী করতাম? ভিআইপিকে দেখতে গিয়ে উদ্ধারকার্য ব্যাহত হত না? পুলিশ কাকে সামলাত? ওই সময় প্রধান কাজ কোনটা?”
বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর উপর আক্রমণ নিয়েও মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কোথায়, “দাঙ্গা-বন্যার পর অসহায় মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। আমাকেও অনেকবার খারাপ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে। দাঙ্গার সময় হিন্দু এলাকায় গিয়ে দেখেছি ওরা তাড়া করছে। মুসলিম এলাকায় গিয়েও একই অবস্থা। কী করা যাবে।”
শনিবার রাতভর প্রবল বর্ষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে উত্তরবঙ্গ। রবিবার সকাল থেকে একের পর এক খারাপ খবর আসতে শুরু করে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন সোমবার তিনি উত্তরবঙ্গে যাবেন। তারপরই বিরোধীরা প্রশ্ন তোলেন, কেন বাতিল করা হল না কার্নিভাল? এপ্রসঙ্গে মহাকুম্ভের দুর্ঘটনার কথা টেনে বিজেপিকে নিশানা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বিজেপিশাসিত রাজ্যের বিভিন্ন দুর্যোগে কেন্দ্র এক কথা বলছে। অথচ বাংলার ক্ষেত্রে অন্য কথা বলছে। দুর্যোগ নিয়ে রাজনীতি তিনি রাজনীতি করেন না বলেও মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, “মহাকুম্ভের দুর্ঘটনা কি ডিজাস্টার ঘোষণা করা হয়েছে?’





