কয়েকদিন আগেই ভয়ঙ্কর দুর্যোগের সাক্ষী থেকেছে উত্তরবঙ্গ। একরাতের নাগাড়ে ভারী বৃষ্টিতে ভেঙেছে সেতু, রাস্তা। ধস নেমে বন্ধ হয়েছে রাস্তা। প্রাণহানীর ঘটনাও ঘটেছে। এখনও নিঁখোজ অনেকেই। ঘরছাড় বহু মানুষ। দুর্গতদের উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়েছে প্রশাসন। নিজে পাহাড়ে ছুটে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজ, রাস্তা দ্রুত মেরামতির জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে দ্রুত দুর্গতদের কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ারও নির্দেশ দেন তিনি। প্রশাসনিক নজরদারিতে পুণর্গঠনের কাজ চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। এই আবহেই সোমবার ফের ত্রাণ নিয়ে উত্তরবঙ্গে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুসারে বালাসন নদীর উপরে হিউম পাইপ দিয়ে তৈরি হচ্ছে অস্থায়ী দুধিয়া ব্রিজ। কয়েকদিনের মধ্যে শেষ করার জন্য কাজ চলছে জোরকদমে। একইসঙ্গে পাকা সেতুর কাজও চলছে। মুখ্যমন্ত্রীর পরিদর্শনের পর কালীখোলা ব্রিজ তৈরির কাজও চলছে। দার্জিলিংয়ের পুলবাজার ব্রিজও নতুন করে তৈরির জন্য সামগ্রী পৌঁছে গিয়েছে। নদীর পাড় সংলগ্ন এলাকার বাড়িঘরগুলিও নতুনভাবে তৈরি করে দিচ্ছে রাজ্য সরকার। প্রশাসনিক নজরদারিতে বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের জন্য নিয়মিত চলছে কমিউনিটি কিচেন। পুলিশের তরফে কমিউনিটি কিচেনের দায়িত্বে রয়েছেন শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সি সুধাকর। এছাড়াও মিরিকে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ৪০০ পরিবারের হাতে জরুরি ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছে। ধূপগুড়ির গধেয়ারকুঠিতে প্রশাসনের তরফে সাধারণ মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে গিয়েছে।
বন্যায় প্রচুর মানুষের বহু নথিপত্র ভেসে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্গতদের পাশে থেকে সেই নথিপত্র পুনরায় বানিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশ মেনেই শুক্রবার থেকে আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রাম, আলিপুরদুয়ার-১, কালচিনি ব্লকের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিশেষ ভ্রাম্যমাণ শিবিরের আয়োজন শুরু হয়েছে। প্রথমদিন মোট ৭০০ জন মানুষ পুলিশের খাতায় তাঁদের জিডি লিপিবদ্ধ করিয়েছেন। চা-বাগান এলাকায় বন্যার কবলে পড়া মানুষদের জন্য মোবাইল ভ্যানের মাধ্যমে এই শিবিরের আয়োজন করেছে জেলা পুলিশ।





