Header AD
Trending

আশা কর্মীদের বিক্ষোভে নাকাল শহরবাসী , ফাঁদে পা না দেওয়ার বার্তা চন্দ্রিমার

সরকারি ছুটি, বেতন বৃদ্ধি-সহ একাধিক দাবি নিয়ে বুধবার সকালে আশা কর্মীদের স্বাস্থ্য ভবন অভিযানের জেরে সেক্টর ফাইভে ব্যাহত যান চলাচল। টেকনো ইন্ডিয়ার সামনে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ আশা কর্মীদের। পুলিশের তরফ থেকে তাঁদের উঠে যাওয়ার অনুরোধ করা হলেও তাঁরা মানতে নারাজ। কলকাতার ধর্মতলা সহ একাধিক জায়াগায় আশা কর্মীদের বিক্ষোভে নাকাল শহরবাসী। এদিকে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে কলকাতায় হাজির হয়েছেন আশা কর্মীদের একটা অংশ। বিভিন্ন জায়গায় তাঁদের আটকানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠেছে। শিয়ালদহ স্টেশন, বেলদা, বর্ধমান-সহ একাধিক জায়গায় তাঁদের স্বাস্থ্যভবন যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে আশা কর্মীদের এই বিক্ষোভ কর্মসূচীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।

আশা কর্মীদের স্বাস্থ্য ভবন অভিযানের কথা মাথায় রেখেই আজ, বুধবার সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় পুলিশ। প্রচুর সংখ্যায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ভবন- এর দু’দিকেই বসানো হয়েছে একাধিক স্তরের ব্যারিকেড। প্রথমে লোহার জালের ব্যারিকেড, তার পরে গার্ডরেল ও বাঁশ দিয়ে ঘেরা হয়েছে গোটা এলাকা। সকাল থেকেই বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে স্বাস্থ্য ভবন ও সংলগ্ন অফিসপাড়ায়। কোনওভাবে যাতে আশা কর্মীরা স্বাস্থ্যভবনের সামনে জমায়েত করে বিক্ষোভ, অবস্থান না করতে পারেন, সেই দিকে নজর রাখা হচ্ছে। এদিন স্বাস্থ্য ভবনে রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরুপ নিগমের কাছে আশা কর্মীদের স্মারকলিপি জমা দেওয়ার কথা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বাস্থ্য ভবন ও আশপাশের দফতরগুলিতে কর্মরতদের পরিচয়পত্র খতিয়ে দেখেই ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষের প্রবেশ কার্যত বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সে জন্যই এই কড়া ব্যবস্থা বলে জানাচ্ছে প্রশাসন। আশাকর্মীদের বিক্ষোভ নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে একটি রাজনৈতিক দলের ফাঁদে পা না দেওয়ার কথা বলেন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, এই প্রকল্পটি কেন্দ্রীয় প্রকল্প। কিন্তু কেন্দ্র টাকা দেয় না! রাজ্য সরকারকেই অধিকাংশ খরচ বহন করতে হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর ধাপে ধাপে কর্মীদের ভাতা বৃদ্ধি করছেন বলে জানিয়েছেন চন্দ্রিমা। মন্ত্রী আশাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আশাকর্মীদের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর সহানুভূতি আছে। বছর বছর ভাতা বৃদ্ধি হয়েছে। ৪২ হাজার মতো মোবাইল দেওয়া হয়েছে। আমরা আপনাদের পাশে আছি। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে কেউ ব্যবহার করতে চাইলে, সেই ফাঁদে পা দেবেন না। কেন্দ্রীয় প্রকল্প, কেন্দ্রের বাজেটের সময় কেন আশাকর্মীদের বিষয়ে কথা বলা হয় না?” আরও বলেন, “আমাদের আবেদন শান্ত থাকুন। ভালো করে কাজ করুন। ঠিক সময়ে মুখ্যমন্ত্রী নজর দেন।”

কয়েক দিন আগেও আশা কর্মীদের একাংশ স্বাস্থ্যভবনের সামনে জড়ো হয়েছিলেন। সেদিন প্রবল বিক্ষোভ, অশান্তি হয়েছিল সল্টলেকে। এমনকি পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। আশা কর্মীদের মূল দাবি হল তিনটি—ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা মাসিক বেতন, সরকারি ছুটির স্বীকৃতি এবং কর্মরত অবস্থায় কোনও আশা কর্মীর মৃত্যু হলে সরকারি আর্থিক সহায়তা। দীর্ঘদিন ধরেই এই দাবিগুলি নিয়ে আন্দোলন চলছে। কিন্তু বারবার প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে তেমন পরিবর্তন না হওয়ায় এ বার স্বাস্থ্য ভবন অভিযানই একমাত্র পথ বলে মনে করছেন আন্দোলনকারীরা। প্রচুর সংখ্যায় মহিলা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই অভিযানের জেরে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে যান চলাচলেও। Wipro More থেকে কোনও বাস বা গাড়িকে স্বাস্থ্য ভবনের দিকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। সমস্ত যানবাহন ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে অন্যদিকে।