মেদিনীপুরে বিজেপি লিড পাওয়া মানে সিপিএমকে অক্সিজেন দেওয়া, স্পষ্ট ভাষায় এমনই বার্তা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ, শুক্রবার মেদিনীপুরের কলেজ মাঠের রণসংকল্প সভা থেকে বিজেপি ও সিপিএমকে এক বন্ধনীতে রেখে আক্রমণের সুর চড়ান তিনি। এই সভা থেকে অতীতের মেদিনীপুরে রাজনীতির স্মৃতিচারণ প্রসঙ্গ তুলে ধরলেন অভিষেক। ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট সরকারের সময়কালের প্রসঙ্গও তুলে সিপিএমকে নিশানা করেন তিনি।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মেদিনীপুরে একসময় সন্ত্রাসের রাজনীতি করেছে সিপিএম। সেই সিপিএমের সন্ত্রাসখ্যাত নেতা সুশান্ত ঘোষের ডানহাত-বামহাত— সুকুর আলি, তপন ঘোষরা, যাঁরা ছোট আঙারিয়া গণহত্যা মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন, তাঁরাই এখন বিজেপির নেতা।“ এ বিষয়ে অভিষেকের কটাক্ষ, “এরা আজ জার্সি পাল্টেছে। নতুন বোতলে পুরনো মদ!” তৃণমূলের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে ঘাটালে মাস্টার প্ল্যান বিষয়ে বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ দেব সংসদে বারবার ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে সরব হয়েছে, বিজেপি সরকার কর্ণপাত করেনি। আমি গত বছর ঘাটালে এসে মানুষকে কথা দিয়েছিলাম, যে প্ল্যান হবে। ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে আমাদের সরকার। ২০২৫ সালে কাজ শুরু হয়েছে। কেউ করলে আমাদের সরকারই করবে। তিন চার বছরের মধ্যে কাজ শেষ হবে। বিজেপি করেনি। এদের কাছে আশাও করি না।“
SIR শুরুর প্রথম দিন থেকেই সুর চড়িয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনের সভা থেকে ভোটে নিবিড় সংশোধনের নামে খসড়া তালিকায় জীবিত ভোটারদের মৃত বলে ঘোষণা করায় তীব্র কটাক্ষ করেন নির্বাচন কমিশনকে। খসড়া তালিকায় দেখানো তিনজন মৃত ভোটারকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের সভায় জনসমক্ষে হাজির করেন। এ বিষয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘জ্ঞানেশের জন্য বাংলায় নতুন প্রকল্প চালু করতে হবে। ছানিশ্রী। ছানি কাটাতে হবে।“ তিনি প্রশ্ন তোলেন, “১২ বছর ক্ষমতায়, একটা মানুষের বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিয়েছে বিজেপি? একটা স্বাস্থ্যকেন্দ্র করেছে? এদের রেখে দিলে আলসার, বাড়তে দিলে ক্যানসার। যোগ্য জবাব দিতে হবে মেদিনীপুরের মানুষকে। তিনবার তৃণমূল সরকার গড়তে আপনাদের অবদান অনস্বীকার্য। ২০২৬ সালে মা মাটি মানুষের সরকারের পক্ষে ১৫-০ করতে হবে।’’
বিজেপি শাসিত বহু রাজ্যে বাংলায় কথা বললেই তাদের বাংলাদেশি বলে হেনস্তার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আজ শুনলাম কাঁথির একটা ছেলেকে, বাংলাদেশি বলে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার একটি ছেলেকেও পাঠিয়ে দিয়েছে। আমরা এঁদের ছাড়ব? ৭০-৮০ বছর এই মাটিতে থেকে বাঙালিকে লাইনে দাঁড়িয়ে ফর্ম ভরে পরিচয় দিতে হবে? প্রমাণ করতে হবে বাঙালিকে?” মেদিনীপুরের বর্তমান দুই বিজেপি বিধায়ককে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, “আমি নাম বলব না। তবে এখানে বিজেপির দু’জন বিধায়ক রয়েছে। এই দুই জনই আমাদের দলে আসতে চেয়েছিল। আমি আসতে দিইনি।’ তারপরই তাঁর অভিযোগ, ‘সিপিএমের হার্মাদরাই আজ বিজেপির জল্লাদ হয়ে উঠেছে। যতদিন আমরা আছি, ততদিন তৃণমূলে ওদের জন্য দরজা বন্ধ।’
বাঁকুড়ায় এসআইআর এর ফর্ম-৭-এর গাড়ি আটকানোর প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, “বিজেপির লক্ষ্য বাংলার যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া।“ শেষ মুহূর্তে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে জানিয়ে দলের কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “আগামী ১৬ থেকে ১৯ জানুয়ারি যদি কোনও বিজেপি নেতা ইআরও অফিসে ১০টার বেশি ফর্ম-৭ জমা দিতে আসেন, তবে ভদ্রভাবে রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে একটু ডিজে বাজিয়ে দেবেন। প্রয়োজন হলে এলাকার বিজেপির ছোট-বড় নেতার বাড়িও ঘেরাও করবেন!” সভা থেকে রাজ্য সরকারের প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন অভিষেক। জানান, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরও ২০ লক্ষ মানুষকে বাড়ি দেবে রাজ্য সরকার। তাঁর কথায়, “যতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন, মানুষের অধিকার বঞ্চিত করতে পারবে না কেউ।”





