ছবি মুক্তির ১০ মাস আগেই শুরু হয়ে গেল অগ্রিম বুকিং। বিশ্বকাপ ক্রিকেট বা ফুটবলের মতো বড় ইভেন্টের টিকিট যেভাবে ১ বছর আগে থেকেই বুকিং করা যায়, অনেকটা সেই আদলে এবার দেশু৭ ছবির টিকিট কাটা যাবে। সোমবার এই প্রথম একসঙ্গে লাইভে এসে অনুরাগীদের জন্য বড় ঘোষণা করলেন দেব-শুভশ্রী। এদিন দুপুর ৩টে থেকেই ‘ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শো’ র লাইভ বুকিং শুরু হয়ে গিয়েছে। সোমবার দুপুরে লাইভে এসে এই মুহূর্তে বাংলা ছবির সবথেকে জনপ্রিয় জুটির দাবি, ‘যেটা আজ পর্যন্ত কোথাও কোনও ইন্ডাস্ট্রিতে হয়নি সেটাই হতে চলেছে বাংলায়। দেশু ৭ শুধু দেব-শুভশ্রী জুটির সেলিব্রেশন নয়, বাংলা ছবি তথা দর্শকদের সেলিব্রেশন। ‘ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শো ইভেন্টে কনভার্ট হতে চলেছে। সোমবার থেকেই শুরু অগ্রিম বুকিং।“
দুর্গাপুজোর সময় আবার একসঙ্গে বড়পর্দায় ফিরছে দেব-শুভশ্রী জুটি সেই ঘোষণা আগেই হয়েছিল। দিনক্ষণও ঘোষণা হয়ে গিয়েছিল, ১৬ অক্টোবর। বাকি ঘোষণা লাইভে এসেই করবেন বলে অঙ্গীকার করেছিলেন দেব-শুভশ্রী। সেইমতো সোমবার নির্দিষ্ট সময় একটি ফাঁকা প্রেক্ষাগৃহে বসে লাইভে আসেন দেশু। প্রেক্ষাগৃহ থেকেই তাঁদের যাত্রা শুরু বলেই এই অভিনব আয়োজন। পরিচিত ভঙ্গিতেই নিজেদের মধ্যে খুনসুটি করতে করতে অনুষ্ঠানটিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন দুই সুপারস্টার। এই ছবির অফার নিয়ে দেব যখন ফোন করেন শুভশ্রী তখন থাইল্যান্ডে। দেবের কথায়, “ওকে বলেছিলাম, এখনও গল্প ঠিক হয়নি, চিত্রনাট্য নেই আর ছবির পরিচালক আমি! ফোনের অন্য প্রান্ত থেকে শুভশ্রী ‘হ্যাঁ’ বলতে৩০ সেকেন্ড সময় নিয়েছিল।“
কেন ‘হ্যাঁ’ বলেছিলেন নায়িকা? শুভশ্রীর উত্তর, “যখন ফোনটা এল তখনই বুঝেছি, নিশ্চয়ই যুদ্ধে নামতে হবে। অনেক যুদ্ধ-ই দেখেছি। না হয় এটাতেও সঙ্গে দিলাম। আর যুদ্ধ থাকাটাও খুব জরুরি। আগামী প্রজন্মকে বলার জন্য যুদ্ধ করাটা খুব জরুরি।“ এরপরেই ইন্ডাস্ট্রির উদ্দেশ্যে কারও নাম না তুলে দেব বলেন, “আমরা লড়াইটা করছি দর্শক ধরে রাখার জন্য, হল ভরানোর জন্য। এখনকার লড়াইটা হচ্ছে আগলে রাখা। আর নেতা কাকে বলে? যে দু’বেলা ভাতের যোগান দেয়, মুখের গ্রাস না কেড়ে নেয়… সবাই যেন শান্তিভাবে মিলেমিশে প্রাণ খুলে বাঁচে, সেটাই একজন নেতার দেখা উচিত। তাই না?” তাঁর ইঙ্গিত কার দিকে সেটা সহজেই অনুমেয়।

দেব বললেন, “যাঁরা সোম-মঙ্গলবারের মধ্যে টিকিট কাটবেন, তাদের জন্য বিশেষ চমক থাকবে ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শো ইভেন্টে।” ইন্ডাস্ট্রিতে দেবের ২০ বর্ষপূর্তিতে আপাতত ২০টি সিনেমাহলকে বেছে নেওয়া হয়েছে এই ইভেন্টের জন্য। ‘দেশু ৭’ সিনেমার টাইটেল কী, গল্পটাই বা কীরকম? আসন সংখ্যা ২ হাজার। প্রথম শোয়ের সময় নির্ধারিত হয়েছে সকাল সাড়ে সাতটা। এই দুদিন যারা টিকিট সংগ্রহ করবেন তাঁরা এই মাসের মধ্যেই দেশুর সই করা ‘গোল্ডেন টিকিট’ হাতে পেয়ে যাবেন। এই জুটির অনুরাগীদের তা নিয়েও কৌতূহল ছিল তুঙ্গে। সেই কৌতূহলের খানিক অবসান ঘটালেও সিনেমার নাম বা কাস্টিং নিয়ে এখনও রহস্য জিইয়ে রাখল দেশু জুটি। যদিও নায়িকার ইঙ্গি্ত, “একটু ঝাল, নুন-মিষ্টি, সবমিলিয়ে মুখরোচক হতে চলেছে আমাদের সাত নম্বর ছবি।” আর এক ধাপ এগিয়ে দেবের মন্তব্য, “রোমান্স, অ্যাকশন, থ্রিল, রিভেঞ্জ সব থাকবে। তবে সিনেমার নাম এখনও ঠিক হয়নি। আট- দশ জনের একটা টিম তৈরি করা হয়েছে। পয়লা বৈশাখে পুরো কাস্টিং-সহকারে সবটা জানাব।” এই সঙ্গে অভিনেতা- প্রযোজকের দাবি তাঁদের জুটির আগের ৬টি ছবির থেকেও নতুন এই ছবির গান আরও আকর্ষণীয় হবে। এরপর একযোগে দেশু’র প্রতিশ্রুতি, ‘ সমগ্র দেশের সিনেইন্ডাস্ট্রিগুলির কাছে আমরা এমন উদাহরণ তুলে ধরতে চাইছি যে, বাংলা সিনেমা, বাংলা সিনেমার দর্শকও পারেন, যাঁরা আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছেন। সিঙ্গল স্ক্রিন হল মালিকদের কুর্নিশ জানাতে এই সিদ্ধান্ত।“ পুজোর বাংলা ছবি মুক্তির কাউন্ট ডাউন শুরু হয়ে গেল সোমবার থেকেই।





