ভারতীয় ক্রিকেটে মহেন্দ্র সিং ধোনি মানেই নিঃস্বার্থ নেতৃত্ব আর নীরব আত্মত্যাগ, এমনটাই প্রচলিত বিশ্বাস। অধিনায়কত্ব ছাড়ার সময় তাঁর সংযমী ভঙ্গি ও সংক্ষিপ্ত ঘোষণাগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে আদর্শ হয়ে উঠেছে। কিন্তু জাতীয় দলের এক প্রাক্তন নির্বাচকের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই বিশ্বাসে বড় প্রশ্নচিহ্ন ফেলল।
প্রাক্তন নির্বাচক যতীন পরাঞ্জপের দাবি, স্বেচ্ছায় নয়—বরং বিসিসিআই-এর চাপে অধিনায়কত্ব ছেড়েছিলেন ধোনি। তাঁর কথায়, ২০১৭ সালেই নির্বাচকমণ্ডলী ঠিক করে নিয়েছিল, ভারতীয় ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সব ফরম্যাটের নেতৃত্ব একসঙ্গে বিরাট কোহলির হাতে তুলে দেওয়া হবে।
পরাঞ্জপে জানান, সেই সময় নির্বাচক প্রধান ছিলেন এমএসকে প্রসাদ। ধোনিকে বিষয়টি জানাতে বিশেষ পরিকল্পনাও করা হয়েছিল, যাতে তিনি অসম্মানিত বোধ না করেন। স্মৃতিচারণায় পরাঞ্জপে বলেন, “মাহি অনেকক্ষণ ধরে ব্যাট করছিলেন। আমি আর প্রসাদ শুধু একে অপরের মুখ চেয়ে বসেছিলাম। ধোনি ফেরার পর ওঁর কাছে গিয়ে বললাম, দেখো মাহি আমাদের মনে হয় এবার সময় এসেছে এগিয়ে যাওয়ার।“
ধোনির প্রতিক্রিয়াও ছিল তাৎক্ষণিক ও শান্ত। তিনি নাকি বলেন, “আমারও মনে হয় এটাই ঠিক সময়। আমাকে কী করতে হবে বলুন।” এরপর নির্বাচকদের নির্দেশে একটি ইমেলে তিনি লিখে দেন—তিনি আর অধিনায়কত্ব চালিয়ে যেতে চান না। রাতের মধ্যেই সেই ইমেল পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, ধোনির নেতৃত্বেই ভারত জিতেছে তিনটি আইসিসি ট্রফি—যা আজও অনন্য কৃতিত্ব। ২০১৪ সালে বর্ডার-গাভাসকর ট্রফি চলাকালীন হঠাৎ টেস্ট অধিনায়কত্ব ছাড়েন তিনি, আর তিন বছর পর ওয়ানডে নেতৃত্বও ছাড়েন। নতুন এই বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত, নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তটি তাঁর ব্যক্তিগত ইচ্ছার চেয়ে বোর্ডের কৌশলগত পরিকল্পনার ফল ছিল।
সব মিলিয়ে, ধোনির ‘স্বেচ্ছা ত্যাগ’-এর গল্পে এবার নতুন ব্যাখ্যা যোগ হল। যা ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে বিতর্ক আরও উসকে দিল বলেই ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা।





