Header AD

কাঞ্চনজঙ্ঘাকে সাক্ষী রেখে টয় ট্রেনেই বিয়ে! দার্জিলিঙে অভিনব পরিকল্পনা DHR-এর

কাঞ্চনজঙ্ঘার কোলে, পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথে ছুটতে থাকা টয় ট্রেনেই যদি বসে বিয়ের আসর—এমন স্বপ্ন কি বাস্তব হতে চলেছে? দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (DHR) কর্তৃপক্ষ ঠিক সেই দিকেই হাঁটছে। পর্যটকদের নতুন অভিজ্ঞতা দিতে এবং আয় বাড়াতেই এই অভিনব পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী মার্চ মাস থেকেই শুরু হয়ে যাবে টয় ট্রেনে ‘ডেসটিনেশন ওয়েডিং’।

ইতিমধ্যেই ১৪২ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড গড়েছে দার্জিলিং হিমালয়ান রেল। ২০২৫ সালে ডিএইচআরের আয় হয়েছে ২৪.৬ কোটি টাকা, যেখানে ২০২৪ সালে আয় ছিল ২১.২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ১৬ শতাংশ আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু আয়ই নয়, পর্যটকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালে যেখানে প্রায় ১ লক্ষ ৭৪ হাজার পর্যটক টয় ট্রেনে সফর করেছিলেন, ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২ লক্ষ ১০ হাজার।

ডিএইচআর কর্তৃপক্ষের দাবি, করোনার আগে পর্যন্ত এই ঐতিহ্যবাহী রেল পরিষেবা চালাতে ভরতুকির প্রয়োজন হতো। কিন্তু ইউনেস্কোর হেরিটেজ তকমা পাওয়ার পর রেল বোর্ডের তরফে জানানো হয়, এবার থেকে নিজের পায়েই দাঁড়াতে হবে টয় ট্রেনকে। সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন বর্তমান অধিকর্তা ঋষভ চৌধুরী। তাঁর উদ্যোগেই পুরনো ঐতিহাসিক স্টিম ইঞ্জিন ও কামরাগুলিকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলা হয়, চালু হয় একাধিক নতুন পরিষেবা। ঋষভের কথায়, “ডিএইচআরের ইতিহাসে এটা বড় সাফল্য। আয় যেমন বেড়েছে, তেমনই পর্যটকদের আগ্রহও অনেকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে আমাদের কর্মীরাও উৎসাহিত।”

এই সাফল্যের পিছনে বড় ভূমিকা নিয়েছে নতুন জয়রাইড পরিষেবা, ব্রিটিশ আমলের মিউজিয়াম সংস্কার, ঐতিহাসিক তথ্য তুলে ধরা এবং হেরিটেজ ইঞ্জিনের পুনরুজ্জীবন। গরমের ছুটির আগেই দার্জিলিং থেকে ঘুম পর্যন্ত চারটি নতুন জয়রাইড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নিউ জলপাইগুড়ি থেকে তিনধারিয়া পর্যন্ত বেসরকারি উদ্যোগে হেরিটেজ টয় ট্রেন চালুর প্রস্তুতিও চলছে। পর্যটন মহলের মতে, এই উদ্যোগগুলি দার্জিলিঙের পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগ করবে। তবে পরিষেবাগুলিকে স্বাভাবিক ও টেকসই রাখতে পাহাড়বাসীর সহযোগিতা ও রেল কর্তৃপক্ষের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

সব মিলিয়ে, টয় ট্রেনে বিয়ের মতো অভিনব ভাবনা বাস্তবায়িত হলে দার্জিলিংয়ের পর্যটন মানচিত্রে যে নতুন ইতিহাস তৈরি হবে, তা বলাই বাহুল্য।