পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর (SIRinBengal) প্রক্রিয়ায় ফর্ম জমা ও হিয়ারিং শেষ হয়ে এখন চলছে ঝাড়াই-বাছাই। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের অপেক্ষা। এই আবহেই মালদহে এক বিএলও’র (BLO) অকালমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। মৃতের নাম আনিকুল ইসলাম (৫৪)। তিনি মালদহের কালিয়াচক-১ ব্লকের সুজাপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বিশ্বাসপাড়া ১৪৪ নম্বর বুথের বিএলও ছিলেন এবং কালিয়াচক হাই স্কুলের শিক্ষকও। তাঁর আদি বাড়ি হরিশ্চন্দ্রপুরে। দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর ধরে কর্মসূত্রে সুজাপুরের বিশ্বাসপাড়ায় থাকতেন।
পরিবারের অভিযোগ, এসআইআরের কাজের অতিরিক্ত চাপ ও মানসিক দুশ্চিন্তার জেরেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। জানা গিয়েছে, বিডিও দপ্তর থেকে তাঁর কাছে ৪৪ জন ভোটারের ফর্ম ‘রি-চেক’ করে ফের জমা দিতে বলা হয়েছিল। এমনকী তাঁর নিজের নামের ফর্মও ফেরত আসে। এই তালিকা হাতে পেয়ে তিনি প্রবল উৎকণ্ঠায় ভুগছিলেন। বুধবার বিকেলে বিষয়টি নিয়ে কালিয়াচক-১ ব্লকের বিডিও দপ্তরে গিয়েও তিনি কোনও সমাধান পাননি বলে পরিবারের দাবি।
সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে অসুস্থ বোধ করলে তিনি একটি নার্সিংহোমে চিকিৎসা করান। পরে রাতে ফের অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে সুজাপুর এলাকার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ন’টা নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ পরিবার-পরিজন। একই সঙ্গে নির্বাচন ব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মালদহ জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র আশিস কুণ্ডু বলেন, “এই মৃত্যুর জন্য দায়ী নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি। বিএলও’রা চাপের মধ্যে কাজ করছেন। আন্দোলন চলবে।”
অন্যদিকে বিজেপির মালদহ দক্ষিণ জেলা সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় পাল্টা দাবি করেন, “আতঙ্ক ছড়াচ্ছে তৃণমূলই। এ ধরনের মৃত্যুর জন্য দায়ী হলে তৃণমূল নেতাকর্মীরাই দায়ী।”
মালদহে বিএলও’র এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক চাপ, কর্মপরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক দায়-দায়িত্ব, সব মিলিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হলো।





