দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং এলাকায় ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ঝলসে গেল চার শিশু। রাস্তার পাশে পড়ে থাকা রাসায়নিক ভর্তি একটি ড্রামে আচমকা বিস্ফোরণ ঘটে। বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। আহতদের মধ্যে তিনজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। তাঁদের উদ্ধার করে ভর্তি করা হয়েছে কলকাতার এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্যানিং বিধানসভার ঘটকপুকুর থেকে মধ্য খড়গাছি পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের কাজ চলছে গত কয়েক দিন ধরে। মঙ্গলবার বিকেলে সেই কাজের জায়গার কাছেই প্রায় ২০০ লিটার লাইট ডিজেল অয়েল (এলডিও) ভর্তি একটি ড্রাম রাখা ছিল। ওই সময় কাছেই খেলছিল ৮ থেকে ১০ বছর বয়সি চার শিশু। হঠাৎই বিকট শব্দে ড্রামটিতে বিস্ফোরণ হয়।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় এক শিশু গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়, অন্য তিনজনও কমবেশি ঝলসে যায়। অসহনীয় যন্ত্রণায় কাতর এক শিশু প্রাণ বাঁচাতে পাশের পুকুরে ঝাঁপ দেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
আহত শিশুদের উদ্ধার করে স্থানীয় বাসিন্দারা তড়িঘড়ি প্রথমে নলমুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তিনজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁদের কলকাতার এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। আহতদের মধ্যে সাদিকুল মোল্লা নামে এক শিশুর অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে বাঙ্গুর ডিভিশনের ডেপুটি কমিশনার সৈকত ঘোষ এবং ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। কলকাতা পুলিশের বোম স্কোয়াড ও ডগ স্কোয়াড ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে নমুনা সংগ্রহ করেছে। রাস্তা সংস্কারের কাজে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না এবং দাহ্য পদার্থ খোলা রাস্তায় কেন ফেলে রাখা হয়েছিল—এই প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার জেরে এলাকায় তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।





