Header AD

বাংলার নির্বাচনের অঙ্ক রাষ্ট্রপতির মুখেও! সংসদে বেনজির প্রতিবাদ বিরোধীদের

Droupadi Murmu

কেন্দ্রীয় বাজেট অধিবেশন ২০২৬–২৭ শুরু হয়েছে। গত বুধবার অধিবেশনের সূচনালগ্নের ভাষণে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁর সরকারের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এদিন লোকসভায় রাষ্ট্রপতির অভিভাসনের অনেকটা জুড়ে ছিল বাংলা ও অসমের ভোট অঙ্ক। যৌথ অধিবেশনের সামনে রাষ্ট্রপতি কেন্দ্রীয় সরকারের সামাজিক ন্যায়বিচার, সর্বাত্মক বিকাশ ও উন্নয়নশীল ভারতের কথা তুলে ধরেন। ভাষণে রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নাম নিতে শোনা যায় রাষ্ট্রপতিকে। এদিন রাষ্ট্রপতি’র অভিভাষণ ঘিরে নজিরবিহীন প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদ। কেন্দ্রীয় সরকারের সাফল্য ও নীতির প্রশংসা শুরু হতেই বিরোধীদের মধ্যে ক্ষোভ চরমে ওঠে।

সংসদের প্রথা মেনে প্রথমদিনই যৌথ সভায় রাষ্ট্রপতির অভিভাষণ। সেখানে অভিভাষণের শুরুতেই অস্বস্তিতে পড়েন দ্রৌপদী মুর্মু। কেন্দ্রীয় সরকারের তৈরি করে দেওয়া ভাষণ পড়া শুরু করতেই কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে, আরএসপি সহ সমগ্র বিজেপি-বিরোধী সাংসদরা উঠে দাঁড়ান। স্লোগান তোলেন ‘এসআইআর ওয়াপস লো।’ প্রবল প্রতিবাদের মধ্যেই অবশ্য রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণ চালিয়ে যান। তবে ধাক্কা খান কিছুক্ষণ পরেই। ভিবি-জি রাম জি আইনের উল্লেখ করে গ্রামীণ কর্মসংস্থানের বাড়তি সুযোগের কথা বলে বক্তব্য রাখতেই ফের বিরোধীদের প্রতিবাদের পারদ আরও চরম পর্যায়ে ওঠে। রাষ্ট্রপতি যত এই আইনের সাফল্য তুলে ধরার চেষ্টা করেন, ততই বাড়ে বিরোধিতার স্বর। দাবি, নারেগা ওয়াপস লাও। গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানকে তো দেখা যায় তিনি দু’ হাতে টেবিল চাপড়াচ্ছেন। সরকার-বিরোধী দুপক্ষের আচরণে লোকসভার কক্ষ হয়ে ওঠে উত্তপ্ত।

রাষ্ট্রপতির ভাষণে এদিন একাধিকবার উঠে আসে বাংলার প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, বাংলা ও পূর্ব ভারত আজ দেশের অন্যতম লজিস্টিক্স হাবে পরিণত হয়েছে। বাংলা-অসমের মধ্যে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন চালু হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি ‘পূর্বোদয়’ নীতির ফলে ওড়িশা ও বাংলা গুরুত্বপূর্ণ উপকূলবর্তী রাজ্য হয়ে উঠেছে-এই দাবিও করেন রাষ্ট্রপতি। তবে সব মিলিয়ে বিরোধীরা প্রথমদিনেই বুঝিয়ে দিয়েছেন, অধিবেশনের বাকি দিনগুলিতেও প্রতিবাদে সোচ্চার হবেন তারা। এদিনের ভাষণের শুরুতেই বন্দেমাতরম ও সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, “গত বছরটি দেশের জন্য স্মরণীয় বছর ছিল। ভারতের দ্রুত অগ্রগতি এবং ঐতিহ্য উদযাপনের বছর ছিল। বন্দেমাতরমের ১৫০তম বার্ষিকী সারা দেশে পালিত হচ্ছে। নাগরিকরা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে তাঁর মহান অনুপ্রেরণার জন্য শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। সংসদে এই বিষয়ে বিশেষ আলোচনা করার জন্য আমি সকল সাংসদকে অভিনন্দন জানাই।’”