আইপ্যাক সংক্রান্ত মামলা সোমবার নাটকীয় মোড় নিল নয়াদিল্লিতে। রাজ্যের শাসকদলের পর এবার সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে এনিয়ে জোড়া মামলা দায়ের করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (Enforcement Directorate)। তাতে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা, ডিসি প্রিয়ব্রত রায় ছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও (Mamata Banerjee) মামলায় যুক্ত করা হয়েছে বলে খবর। পার্টি করা হয়েছে আরেক কেন্দ্রীয় সংস্থা সিবিআইকেও। এ বিষয়ে ইডির দাবি, মুখ্যমন্ত্রী ইচ্ছাকৃতভাবে আইন নিজের হাতে নিচ্ছেন এবং কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার কাজে বাধা দিতে রাজ্য পুলিশকে ‘অপব্যবহার’করছেন।
প্রসঙ্গত, গত ৮ জানুয়ারি রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের দপ্তর এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিছু ফাইল উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, ফরেন্সিক টিম দিয়ে দলের নথিপত্র চুরি করা হয়েছে। তাতে নির্বাচনী রণকৌশলের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র রয়েছে। সেসব ছিনতাইয়ের ষড়যন্ত্র করেছে ইডি, এই অভিযোগ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, দলের স্বার্থে তিনি সেসব ফাইল সঙ্গে নিয়ে গেলেন। যদিও পুরনো কয়লা পাচার সংক্রান্ত মামলায় ওই তল্লাশি বলে দাবি করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। তারা অভিযোগ তোলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তদন্তের কাজে বাধা দিয়েছেন। এবং তাঁকে সেই কাজে সহায়তা করেছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা-সহ পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। এর বিরোধিতা করে সোমবার সুপ্রিম কোর্টে জোড়া মামলা দায়ের করা হয়েছে – একটি ইডির তরফে, অপরটি মামলাটি আলাদাভাবে দায়ের করেছেন ইডির তিন অফিসার। অভিযোগ, তল্লাশি চলাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের হাত থেকে ফাইল ছিনিয়ে নিয়েছেন।
শীর্ষ আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে ইডি উল্লেখ করেছে, পশ্চিমবঙ্গে আইন রক্ষার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরাই গুরুতর অপরাধে মদত দিচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যের ডিজিপি ও কলকাতার পুলিশ কমিশনারের কথা তুলে ধরেছে ইডি। যদিও ইডি হানার পরপর কলকাতা হাই কোর্টে এনিয়ে মোট তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে সেই মামলাগুলি রয়েছে। একটি মামলা হয়েছে ইডির তরফে, বাকি দুটি মামলা দায়ের করেছিল রাজ্য সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেস। গত শুক্রবার মামলাগুলির শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও বিচারপতি মামলা সেদিনের মতো মুলতুবি করে দেন। আগামী ১৪ জানুয়ারি সেই মামলাগুলির শুনানি।




