বালি পাচার মামলায় এবার সরাসরি তদন্তে নামল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট ( ইডি )। সোমবার সাতসকালে বিধাননগর-সহ কলকাতার বেহালা, রিজেন্ট পার্কে তল্লাশি অভিযানে অ্যাকশনে নামে তারা। তল্লাশি চালায় ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরের ৪-৫ টি বালি খাদানেও। তদন্তকারীদের নজরে একাধিক বালিখাদানের মালিক এবং তাঁদের অফিসও রয়েছে। বালি পাচারের মোটা অঙ্কের টাকা বিমায় গিয়েছে বলে অনুমান তদন্তকারীদের। ইডি সূত্রে খবর, রবিবার মধ্যরাতেই রাজ্যের নানা দিকে রওনা দেন তদন্তকারীরা। সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা। সব মিলিয়ে মোট ২২ টি জায়গায় ইডির এই অভিযান চলছে বলে খবর।
এদিন সকালে সার্চ ওয়ারেন্ট হাতে গোপীবল্লভপুর -১ ব্লকের নয়াবসানে শেখ জাহিরুলের বাড়িতে পৌঁছে যান তদন্তকারীরা। জাহিরুল বালি কারবারের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ। জানা যাচ্ছে, শেখ জাহিরুল এক সময় ভিলেজ পুলিশে কর্মরত ছিলেন। সেই কাজ ছেড়ে বালি ব্যবসায় নামেন। সুবর্ণরেখা নদীর খুব কাছেই বিশাল বাড়ি। তাঁর একাধিক বালি খাদান রয়েছে বলেও অনুমান তদন্তকারীদের। গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। বাড়ির পাশাপাশি অফিস ও গাড়িতেও তল্লাশি অভিযান চলছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে সমস্ত নথি। শুধু শেখ জাহিরুলই নয়, বেলিয়াবেড়া, জামবনি ব্লকের একাধিক বালি খাদান মালিকদের বাড়ি এবং অফিসে একযোগে ইডি আধিকারিকরা তল্লাশি চালাচ্ছেন বলে জানা যাচ্ছে।
কীভাবে চলত বালি পাচার ? একাংশের দাবি, একাধিকবার এই বিষয়ে অভিযোগ করা হয়েছে। একেবারে অবৈধভাবে নদী থেকে বালি তোলা হয়। অতিরিক্ত লরি পাঠিয়ে সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলে এই বালি তোলার কাজ। লরির নম্বরেও করা হতো দুর্নীতি। একই নম্বর ব্যবহার করেই একাধিক লরিতে চলত এই বালি পাচার। কার্যত অনেক ক্ষেত্রেই তা প্রশাসনের বোঝার বাইরে ছিল। যদিও স্থানীয়দের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে প্রশাসনের একাংশের যোগসাজশ রয়েছে। অবৈধভাবে বালি তোলার ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে বলে বারবার সরব হয়েছেন স্থানীয় মানুষজন। এবার সেই ঘটনার তদন্তেই গতি বাড়াল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
আতসকাঁচের তলায় সল্ট লেকের জি ডি মাইনিং কোম্পানি । সেক্টর ফাইভে সংস্থার হেড অফিসে হানা দেয় ইডি। তল্লাশি চালায় মালিকের বাড়িতেও। সংস্থার এক কর্মী জহিরুল আলিও ইডি’র নজরে । সূত্রের খবর, জহিরুলের বাড়ি থেকে ১২ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে সংস্থা।





