Header AD
Trending

বুধবারের গুঞ্জনের অবসান! এক ফ্রেমে হাসিমুখে দেব–প্রসেনজিৎ, ভুল বোঝাবুঝি কি মিটল?

বুধবারের স্ক্রিনিং কমিটির বৈঠক ঘিরে যে বিতর্ক টলিপাড়ায় ঝড় তুলেছিল, তার রেশ কি কাটল শুক্রবারে এসে? অভিযোগ উঠেছিল, সেই বৈঠকে দেব নাকি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়-সহ একাধিক তারকা সদস্যকে অপমান করেছেন। কিন্তু সপ্তাহের শেষে ছবিটা যেন পুরো বদলে গেল—এক ফ্রেমে হাসিমুখে ধরা দিলেন দেব (Dev) ও প্রসেনজিৎ (Prosenjit Chatterjee)। সঙ্গে প্রসেনজিৎ-পুত্র তৃষাণজিৎ চট্টোপাধ্যায়।

শুক্রবার প্রথমে সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নেন দেব। ক্যাপশনে তাঁর স্বভাবসিদ্ধ সংক্ষিপ্ততা—‘এমনি’! যেন বোঝাতে চাইলেন, ‘দাদা–ভাই’-এর মধ্যে কোনও ভুল বোঝাবুঝিই হয়নি। কিছু ক্ষণ পর একই ছবি ভাগ করে নেন প্রসেনজিৎও। তবে তাঁর লেখায় ছিল পরিণত আবেগের ছোঁয়া। দেবকে সম্বোধন করে তিনি লেখেন,
“তুই এলি, কথা বললি, ভাল লাগল। নিজের খারাপ লাগাগুলো সরিয়ে বাড়ির ভুল বোঝাবুঝিগুলো সামলানোটাই মনে হয় বড়দের কাজ। ভাল থাক। আদর।”এই পোস্টের পর স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—তা হলে কি সত্যিই বুধবার দেবের বক্তব্যে আহত বা অপমানিত হয়েছিলেন প্রসেনজিৎ? নাকি কোনও কারণ ছাড়া ‘এমনি’ ইন্ডাস্ট্রির অভিভাবক প্রসেনজিতের বাড়ি ছুটে গেলেন দেব! নিন্দুকরা বলছেন, বিতর্কে জল ঢালতেই নাকি দেবের এহেন পদক্ষেপ। আর তাতেই নাকি অভিভাবকসম বুম্বাদার অভিমান গলে জল হয়েছে।

বুধবার ছিল টলিউডের স্ক্রিনিং কমিটির বৈঠক। সেই বৈঠকের আবহ দেখে উপস্থিত সাংবাদিকদের পক্ষে কাচের ঘরের ভিতরের ঘটনা আঁচ করা সম্ভব হয়নি। বৈঠকের মাঝপথেই দেব ও ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বেরিয়ে যান। দেব জানান, অন্য একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার তাড়া রয়েছে। ঋতুপর্ণা কোনও কথা না বলেই বেরিয়ে যান, তাঁর চোখেমুখে স্পষ্ট অসন্তোষের ছাপ ছিল। এরপর থেকেই গুঞ্জন শুরু।

পরদিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার বৈঠকের অন্দরের খবর সামনে আসে। শোনা যায়, দেব নাকি প্রসেনজিৎ, কমিটির সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত, ফেডারেশন সভাপতি, কমিটির সদস্য স্বরূপ বিশ্বাস এবং অভিনেতা-প্রযোজক জিৎ-সহ একাধিক ব্যক্তিকে কটাক্ষ করেন। প্রসেনজিৎকে উদ্দেশ করে তাঁর কথিত মন্তব্য—“তুমি ‘পদ্মশ্রী টদ্মশ্রী’ পেয়েছ, তোমায় তো জায়গা ছেড়ে দিতেই হবে।” পাশাপাশি, স্ক্রিনিং কমিটির প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এমনকি জিৎকে নাকি বলেন, “পুজোয় আসতে চাইলে এসো, তুমি-আমি বসে কথা বলি। এর জন্য স্ক্রিনিং কমিটির মিটিংয়ের কী দরকার?”এই সব বক্তব্যে বৈঠকে উপস্থিত প্রায় সকলেই নাকি ক্ষুব্ধ হন। মনে করা হচ্ছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং বিতর্কে ইতি টানতেই শুক্রবার দেব সোজা হাজির হন বুম্বাদার বালিগঞ্জের ‘উৎসবে’।

উল্লেখ্য, ২০২৬-এর পুজোর স্লট দেব আগেই বুক করে রেখেছেন। শুভশ্রীর সঙ্গে জুটি বেঁধে ‘দেশু ৭’-এর দশ মাস আগে অগ্রিম বুকিং চালু করে ভালো সাড়াও পেয়েছেন। অন্য দিকে, জিতের (Jeet)‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-ও পুজোয় মুক্তির পথে। এই নিয়েই নাকি বৈঠকে দুই সুপারস্টারের মধ্যে ঠান্ডা তরজা শুরু হয়। সেই তরজা সামাল দিতে গিয়েই নাকি অস্বস্তিতে পড়তে হয় ইন্ডাস্ট্রির অগ্রজ ‘বুম্বাদা’কেও।

তবে সব জল্পনা, অভিযোগ আর কানাঘুষোর মাঝে শুক্রবারের এই একটি ছবি যেন অনেক কথাই বলে দিল। দেব ও প্রসেনজিতের সেই হাসিমুখের ফ্রেম—নিন্দুকদের মুখে কার্যত খিল লাগাল বলা চলে।