দুই দিনের ব্যবধানে হাতি নিয়ে দুটি স্বল্প দৈর্ঘ্যের ভিডিওকে কেন্দ্র করে তোলপাড় নেটপাড়া। ভিডিও দুটিতে হাতির হামলার ছবি দেখা যাচ্ছে। দাবি করা হয়েছে এই দুটি ভিডিওর, একটি ভিডিও জয়পুর-চাষ মোড়ের। অন্যটি রঘুনাথপুরের ঝাড়ুখামারের। মেটা অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা ওই দুটি ভিডিও নিমেষে ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই শেয়ার করেন,আবার কমেন্ট করেন। ভিডিও দুটি পোষ্ট করার পাশাপাশি ওই এলাকার মানুষজনকে সাবধান করা হয়েছে। তবে বনদপ্তরের দাবি ওই ভাইরাল ভিডিও দুটি পুরোপুরি ভুয়ো। এবার এই ভুয়ো ভিডিও সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য আইনি পদক্ষেপ নিল বনদপ্তর। এই মর্মে ওই মেটা অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে রবিবার রাতে পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কংসাবতী উত্তর বনবিভাগের রঘুনাথপুর থানার রেঞ্জার।
বন দপ্তর সূত্রে খবর ‘রাহুল রাহুল’ নামক একটি মেটা অ্যাকাউন্ট থেকে শুক্রবার ২৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ভিডিও উপর লেখা ছিল ‘৯:৩২ মিনিট রাত্রি’ ভিডিওর নিচে লেখা রয়েছে ‘পুরুলিয়া জয়পুর চাষমোড় ছাত্রী নিবাসের দোতলা থেকে ভিডিও করা হয়েছে। পুরুলিয়াবাসী সাবধান। রাঁচি থেকে হাতি পুরুলিয়াতে প্রবেশ করেছে। গাছ কাটো বনবিভাগ কাটো।’ ঠিক তার পরের দিন রবিবার ফের একটি হাতির দলের ২০ সেকেন্ডের ভিডিও পোস্ট করা হয়। কুয়াশা মাখা রাতের অন্ধকারে কালো পিচ রাস্তা পারাপারের ওই ভিডিওর মধ্যে লেখা ‘পুরুলিয়া রঘুনাথপুর ঝাড়ুখামারের রাস্তায় শনিবার ৯:৩০ রাত্রি সময় দেখে গিয়েছে হাতি।’ ভিডিওতে লেখা, ‘এলাকায় থাকা লোককে সাবধান করা হল।’
ওই ভিডিও দুটি আপলোডের পরই নিমেষে ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় আড়াই লাখ মানুষ ভিডিও দুটি দেখেন। অনেকে ওই ভিডিওর সত্যতা যাচাই না করেই শেয়ার করেন। তবে কমেন্টে বহু মানুষ ওই ভিডিওটি ভুয়ো এবং জয়পুর বা চাষ মোড় এলাকার নয় সেটিও দাবি করেন। পরেও ওই অ্যাকাউন্ট থেকে রবিবার ফের একটি হাতির দলের ২০ সেকেন্ডের ভিডিও পোস্ট করা হয়। আর সেটিও সমানভাবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই ভিডিওটি প্রায় দেড় লাখ মেটা ব্যবহারকারী দেখেছেন। প্রায় আড়াইশো জন শেয়ার করেছেন। তবে দ্বিতীয় ওই ভিডিওতেও মানুষজন প্রতিক্রিয়ায় ভুয়ো ভিডিও বলে জানিয়েছেন। রবিবার বন দপ্তরের নজরে আসে এই ভিডিও দুটি। আর তারপরই পদক্ষেপ নেওয়া হয় বন দপ্তরের তরফ থেকে। তবে কী উদ্দেশ্যে ওই ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।





