নির্বাচন আসতে আর কিছু দিন বাকি। ভোট যত এগিয়ে আসছে, তত রাজনৈতিক তরজা বাড়ছে। বাড়ছে প্রচার মিছিল-সভার বহর। বারুইপুরের পর আবারও কোচবিহারে একই রণকৌশল! আজ, মঙ্গলবার কোচবিহারের সভা থেকে কমিশনের তালিকায় মৃত ১০ ভোটারকে সভা মঞ্চে হাজির করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিশনকে বিঁধে তাঁর তোপ, “এই ১০ জনকে বিজেপির দালাল নির্বাচন কমিশন ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার মৃত বলে ঘোষণা করেছেন।” কোচবিহারের সভায় হাজির জনতার উদ্দেশ্যে তিনি প্রশ্ন করেন, “আমার পাশে যাঁরা দাঁড়িয়ে আছেন, তাঁদের কি মৃত বলে বলে মনে হচ্ছে?” তাঁর বার্তা, “শুধু রাজ্যের টাকা আটকে রাখা নয়। মানুষের মৌলিক অধিকার অর্থাৎ ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে দিল্লির জমিদাররা। আগামীর লড়াই আবর্জনা সাফ করার লড়াই।”
রণসংকল্প কর্মসূচি নিয়ে জেলায় জেলায় সভা করছেন অভিষেক। গত ২ জানুয়ারি বারুইপুরের সভায় প্রথম এই চমক দেখা যায়। অভিষেক ব্যাখ্যা দেন, ব়্যাম্পে ‘মৃত’দের হাঁটাবেন বলেই এই ব্যবস্থা। আজ, মঙ্গলবার কোচবিহারে সভা করলেন তিনি। এদিনও কোচবিহারের সভায় ১০জনকে উপস্থিত করে হাঁটালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। যাঁদের কমিশন খসড়া ভোটার তালিকায় মৃত বলে দেখিয়েছে। তাঁদের সভায় হাজির করে অভিষেক বলেন, “আমার সঙ্গে ১০ জন রয়েছেন, তাঁরা সবাই কোচবিহারে মানুষ। এই মাটিতে জন্মেছেন। বড় হয়েছেন। তাঁদের বিজেপির দালাল নির্বাচন কমিশন ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার মৃত বলে ঘোষণা করেছেন।”সভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে বলেন, “যাঁরা এই মাটিকে অপমানিত করেছে তাঁদের জবাব দেবেন না?” সভামঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ তোলার পাশাপাশি, বিজেপি সরকার ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ারও অভিযোগ করেছেন। অপরিকল্পিত এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য ৭৮ জন মারা গিয়েছেন বলে তোপ দেগেছেন তিনি।
কোচবিহারের SIR-এর নামে সাড়ে তিন লক্ষ মানুষকে নতুন করে নোটিশ ধরানো হয়েছে বলে অভিযোগ করলেন অভিষেক। তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, “যাঁরা কমিশনের নোটিশ পেয়েছেন, তাঁদের সবার নাম যেন ভোটার লিস্টে থাকে, এটা দলের কর্মীদের নিশ্চিত করতে হবে। দিল্লির বিষয়টা আমরা বুঝে নেব।” পাশাপাশি মঞ্চ থেকে দিল্লি যাওয়ারও ডাক দিয়েছেন সাংসদ। তাঁর দাবি, মাঠে যা লোক হয়েছে তাঁর এক তৃতিয়াংশ লোক গেলে দিল্লির নেতারা বানের জলে ভেসে যাবে। এছাড়াও, বাঙালি মনীষীদের ভুল নাম নেওয়া, বাংলা ভাষাকে অপমান করা নিয়ে বিজেপিকে বিঁধেছেন তিনি। বলেন, ” ওদের থেকে আমাদের হিন্দুত্ব শিখতে হবে।“ ভিন রাজ্যে বাংলা ভাষায় কথা বললে বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অকথ্য অত্যাচার করা হচ্ছে। সেই অত্যাচারের প্রতিবাদ জানিয়ে অভিষেক বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী, নিশীথ প্রামাণিকরা কোন ভাষায় কথা বলেন? তাহলে সেই অপরাধে তো তাঁদেরও গ্রেপ্তার করা উচিত।” আগামী নির্বাচনে কোচবিহারে বিজেপিকে শূন্য করে ৯টা সিটের নটায় তৃণমূলকে জয়ী করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।




