অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন মামলা তালিকাভুক্ত করার ক্ষেত্রে কারচুপির অভিযোগ বহুবার উঠেছে কলকাতা হাইকোর্টে ৷ গত শুক্রবার ঠিক তেমনই একটি মামলায় ইঙ্গিত পেয়ে কার্যত ক্ষোভে ফেটে পড়লেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও৷ লিখিত নির্দেশ না-থাকা সত্ত্বেও শুনানির জন্য একটি মামলা তালিকার একেবারে উপরের দিকে কীভাবে উঠে এল, তা দেখে এদিন এজলাসেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। কোর্ট অফিসারদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “আমি দুর্নীতি, তথ্য গোপন করা এবং অকারণে মামলার মুলতুবি চাওয়ার বিরোধী৷” শুক্রবার বিচারপতি নিজের এজলাসের আধিকারিকদের বিরুদ্ধেই তদন্তের নির্দেশ দেন।
ঠিক অন্যান্য দিনের মতো এদিনও বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের ২৫ নং এজলাসে মামলার শুনানি চলছিল ৷ তালিকার ১৬ নং মামলাটি শুনানির জন্য ডাকা হলে অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল অশোক চক্রবর্তী জানান, এই মামলাটি গতকাল তালিকার ৯২ নম্বরে তালিকাভুক্ত ছিল ৷ কিন্তু এদিনই কীভাবে ১৬ নম্বরে উঠে এল, প্রশ্ন তোলেন এএসজি৷ কারণ কোনও আইনজীবী বিচারপতির কাছে এই মামলার জরুরি শুনানির আর্জি জানাননি, তা সত্ত্বেও মামলাটি কীভাবে তালিকার উপরে উঠে এল ? বিচারপতি কৃষ্ণা রাও কোর্টের আধিকারিকদের কাছে সেই সময় তালিকা চেয়ে পাঠান ৷ সেটি দেখার পর তিনি বলেন, “আমি অনুসন্ধান করে দেখছি ৷” একই সঙ্গে ক্ষুব্ধ বিচারপতি বলেন, “বিকেল ৪.৩০ মিনিটের পর এজলাসে কী ঘটেছে, আমি জানি ৷ আমি দুর্নীতি, তথ্য গোপন আর মুলতুবি চাওয়ার সম্পূর্ণ বিরোধী ৷ আমার এজলাসে আমি এগুলো সহ্য করব না ৷” বিচারপতি কলকাতা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দেন, আদালতের কোন কোন আধিকারিকরা এই ঘটনায় যুক্ত তা তদন্ত করে দেখতে ৷ পাশাপাশি বিষয়টি প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের নজরে আনার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি ৷ আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে এই বিষয়ে রিপোর্ট দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও।
কয়েকদিন আগে বিচারপতি তাঁর এজলাসের আধিকারিকদের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। এর আগে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও মামলার শুনানির সময় আইনজীবীদের আচরণ বা তাঁরা আদালতের নিয়ম পালন করছেন না বলে একাধিক বার সরব হয়েছেন৷ মামলার শুনানি করতে করতে মাঝপথেই রেগে গিয়ে মামলার শুনানি শেষ না-করে বেরিয়েও গিয়েছেন তিনি।





