Header AD

ভুল হেয়ারকাটের খেসারত ২৫ লক্ষ টাকা! সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জরিমানা গুনতে হল পাঁচতারা হোটেলকে

কথায় আছে, চুলই নারীর সৌন্দর্যের বড় পরিচয়। সেই চুল নিয়েই সামান্য ভুল, আর তাতেই বড়সড় আইনি ঝামেলায় পড়ল দিল্লির এক নামী পাঁচতারা হোটেল। ভুলভাবে চুল কাটার অভিযোগে শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এক মডেলকে ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ওই হোটেলকে।

ঘটনাটি ২০১৮ সালের। দিল্লির আইটিসি মৌর্য হোটেলে চুল কাটাতে গিয়েছিলেন উঠতি মডেল আশনা রায়। তাঁর অভিযোগ, তিনি মাত্র চার ইঞ্চি চুল কাটতে বললেও ভুল করে অনেকটাই চুল কেটে ফেলা হয়। এই হেয়ার কাট তাঁর পছন্দ হয়নি। এর জেরে তাঁর মডেলিং কেরিয়ার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এই অভিযোগের ভিত্তিতে আশনা ন্যাশনাল কনজিউমার ডিসপুটস রিড্রেসাল কমিশন (NCDRC)-এর দ্বারস্থ হন। ২০২১ সালে এনসিডিআরসি ওই পাঁচতারা হোটেলকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং মডেলকে ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হোটেল কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে।

২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নতুন করে খতিয়ে দেখার জন্য মামলাটি ফের এনসিডিআরসি-তে পাঠায়। এরপর আশনা ৫ কোটি ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেন এবং প্রমাণ হিসেবে ইমেল ও বিভিন্ন নথি জমা দেন, যা তাঁর কেরিয়ারে প্রভাব পড়েছে বলে দাবি করা হয়। তবু এনসিডিআরসি আবারও ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় হোটেল। শেষ পর্যন্ত শীর্ষ আদালত জানায়, কেরিয়ারে ভরাডুবির যথেষ্ট ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ দিতে পারেননি অভিযোগকারিণী। সেই কারণে ২ কোটি টাকার পরিবর্তে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক কমিয়ে ২৫ লক্ষ টাকা করা হয়।

দীর্ঘ প্রায় আট বছর ধরে চলা এই মামলার অবসান হল ২০২৬ সালে। বলা যায়, একটি হেয়ার কাট থেকেই শুরু হওয়া এই বিতর্কের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করল সুপ্রিম কোর্ট। চুল নিয়ে সত্যি সত্যিই চুলচেরা বিশ্লেষণের পর।