দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর প্রয়াত হলেন বঙ্গ রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী মুখ মুকুল রায় (Mukul Roy)। একসময় সক্রিয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের কেন্দ্রে থাকলেও শেষ কয়েক বছর জনসমক্ষে খুব একটা দেখা যায়নি তাঁকে। তবে পরিবারের কাছে তাঁর সুস্থ হয়ে ফেরার প্রত্যাশাই ছিল সবচেয়ে বড় বিষয়। বাবার মৃত্যুসংবাদ জানিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে সেই কথাই তুলে ধরলেন তাঁর ছেলে, বীজপুরের বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়। পাশাপাশি ফোন করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) সমবেদনা জানানোর কথাও উল্লেখ করেন মুকুলপুত্র শুভ্রাংশু। সেই সঙ্গে বিধানসভা থেকে কাঁচরাপাড়ায় প্রয়াত নেতার শেষ যাত্রায় শুভ্রাংশুর পাশে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
রবিবার গভীর রাতে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৭৩ বছর বয়সি এই প্রবীণ রাজনীতিক। জানা গিয়েছে, রাতে আচমকা বড় ধরনের হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। দীর্ঘ প্রায় ৬০০ দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন মুকুল রায়। অধিকাংশ সময়ই ছিলেন প্রায় কোমায় আচ্ছন্ন অবস্থায়। শারীরিক যন্ত্রণায় ভুগছিলেন দীর্ঘদিন ধরেই।
বাবাকে শেষ দেখা দেখতে সকালে হাসপাতালে পৌঁছন শুভ্রাংশু। শোকস্তব্ধ কণ্ঠে তিনি বলেন, “বাবা সারাজীবন রাজনীতির সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন। তাই খুব বেশি সময় পাইনি তাঁর সান্নিধ্য। তবে যতটুকু পেয়েছি, তিনি ছিলেন বন্ধুর মতো। জীবনের কঠিন সময়ে তাঁর পরামর্শ ও সমর্থন সবসময় পেয়েছি।” মুকুল রায়ের প্রয়াণে রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমেছে। শুভ্রাংশু জানান, অসুস্থতার পুরো সময়জুড়ে তৃণমূল নেতৃত্ব নিয়মিত খোঁজখবর নিয়েছেন। মৃত্যুর পরেও দলের পক্ষ থেকে যোগাযোগ রাখা হয়েছে। বিশেষভাবে তিনি উল্লেখ করেন, তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে ফোন সমবেদনা জানিয়েছেন । শেষকৃত্যের সমস্ত ব্যবস্থার দায়িত্ব নিয়েছেন। সেই সঙ্গে বিধানসভায় গিয়ে প্রয়াত নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান অভিষেক। এমনকি মুকুল রায়ের দেহ নিয়ে প্রয়াত নেতার কাঁচরাপড়ার বাড়িতেও শুভ্রাংশুর সঙ্গে যান অভিষেক। দলের শীর্ষ নেতৃত্বও নিয়মিত পরিবারের পাশে ছিলেন বলে জানান প্রয়াত নেতার ছেলে।
অন্যদিকে, যে দলের হয়ে তিনি একসময় বিধায়ক পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন, সেই বিজেপি নেতৃত্বের তরফে কোনও যোগাযোগ না হওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন শুভ্রাংশু। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে ক্ষোভের সুর। শুভ্রাংশুর কথায়, মুকুল রায়ের প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাত থেকেই গ্রামাঞ্চল-সহ বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু অনুরাগী যোগাযোগ করেছেন পরিবারের সঙ্গে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে পরিচয় তিনি গড়ে তুলেছিলেন, তাঁর মৃত্যুতেও যেন তারই প্রতিফলন দেখা গেল।
রাজনৈতিক জীবনে মুকুল রায়ের উত্থান ছাত্র রাজনীতির হাত ধরে। কংগ্রেসে থেকেই তাঁর প্রথম পথচলা শুরু। পরে ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কংগ্রেস ছেড়ে নতুন দলে যোগ দেন তিনি। সংগঠক হিসেবে তাঁর দক্ষতা দ্রুতই প্রমাণিত হয়। উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচড়াপাড়া থেকে দিল্লির রাজনৈতিক অঙ্গন— সর্বত্রই ছিল তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি। দীর্ঘদিন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদ সামলেছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় রেলমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।
২০১৭ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দিলেও ২০২১ সালে আবার তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করেন। তবে তারপর থেকে অসুস্থতার কারণে সক্রিয় রাজনীতিতে আর দেখা যায়নি তাঁকে।





