শহরের মধ্যভাগে ব্রিটিশ আমলে তৈরি প্রাচীন বিধানসভা ভবনে নাকি ‘ভূতের উপদ্রব’ শুরু হয়েছে! রাত বাড়লেই দোতলার বিশেষ একটি কক্ষের বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে ‘ছায়া’! নিরাপত্তারক্ষীদের একাংশ ভয়ে কাঁটা। অনেকেই নাকি রাতে ডিউটি করতে নারাজ। দাবি, পুজো-দীপাবলি মিলিয়ে দীর্ঘ ছুটিতে বিধানসভা বন্ধ থাকার পর কিছু বিষয় নাকি ‘বদলে’ গিয়েছে। রাতে নাকি নানারকম শব্দও শোনা যাচ্ছে! তবে সবই শোনা কথা। এখনও ভূত দেখেছেন বা নিজের চোখে ভৌতিক কাণ্ডকারখানা চাক্ষুষ করেছেন, নিদেনপক্ষে আওয়াজ শুনেছেন এমন মানুষের সন্ধানও মেলেনি। বিধানসভা ভবনের নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্তদের একাংশ এই ‘ভূত-তত্ত্ব’ যথারীতি হেসে উড়িয়ে দিচ্ছেন। তাঁদের বক্তব্য, বিধানসভায় রাতে কেউ থাকে না। বেশির ভাগ আলো নেভানো থাকে। ফলে রাতের দিকে ইঁদুর, ছুঁচো, ভামবিড়ালের আনাগোনা বেড়ে যায়। তাদের চলাফেরায় নানা রকম শব্দ হওয়া স্বাভাবিক। ইতিমধ্যে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে অশরীরি আতঙ্কের কথা জানিয়েছেন। যদিও বিমানবাবুর কথায়, ‘‘আসলে এত বড় জায়গা, এত বড় বাড়ি। তাই দু’-একজন লোক থাকলে তাদের ভয় হবেই। একটা মানসিক চাপ তো থাকে। সেটা ভূতের চাপ কি না বলতে পারব না।’’
কলকাতার পুরনো বাড়িগুলিতে ভূত-তত্ত্ব নতুন নয়। আকাশবাণী ভবন, টাউন হল, জাতীয় গ্রন্থাগার, আলিপুরের হেস্টিংস হাউস বা মহাকরণ ভূতুড়ে ভবন হিসেবে পরিছিতি আছে। বিধানসভা ভবনের কথা আগে একবার শোনা গেলেও খুব বেশি প্রচার হয়নি। তবে পশ্চিমবঙ্গে ভূতে বিশ্বাসী রাজনীতিবিদের অভাব নেই। প্রয়াত সুব্রত মুখোপাধ্যায় মনেপ্রাণে মানতেন, ভূতের অস্তিত্ব আছে। সত্তরের দশকে তিনি রাজ্যের মন্ত্রী থাকাকালীন যে তিনি মহাকরণে ভূত দেখেছেন, তা বহু ইন্টারভিউতে বলেছেন সুব্রত। ভূতের ভয়ে তিনি সারা রাত ঘরের আলো জ্বালিয়ে ঘুমোতেন। প্রসঙ্গত, পাঁচ দশক আগেও একবার এই ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়েছিল বিধানসভায়। আতঙ্কে নাকি দোতলা থেকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন এক নিরাপত্তারক্ষী। গুরুতর আহত হয়েছিলেন তিনি। তাঁরও নাকি মনে হয়েছিল এক কিশোরীর ছায়া চলেফিরে বেড়াচ্ছিল। সেই ভয়তেই নাকি তিনি ঝাঁপ দেন। যদিও এই ঘটনার সত্যতা কতটা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। আবার কি তাহলে সেই ‘অশরীরি ‘ ফিরে এল এত বছর বাদে! রসিকজনের কেউ কেউ আবার বলছেন, “এগুলো নাইট ডিউটি থেকে অব্যাহতি পাওয়ার ফন্দিও হতে পারে।“




