Header AD
Trending

বাংলা দখলের ডাক গিরিরাজের! বিজেপিকে ধুয়ে দিয়ে তৃণমুলের জবাব ‘শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভরসা’

বিহারে চলছে হাইভোল্টেজ ভোটগণনা। বিধানসভা নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে এগিয়ে নীতিশ কুমারের জেডিইউ-বিজেপি জোট। এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী ২০০ বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে এনডিএ,  অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে মহাগঠবন্ধন জোট। প্রাথমিক ট্রেন্ডে সেই ইঙ্গিত মিলতেই বাংলা নিয়ে হুঙ্কার দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং (Giriraj Singh)। তৃণমূলের সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) নিশানা করে তিনি বলেন, “বিহারের পর এবার বাংলার পালা। আমরা বাংলাতেও জিতব। ওখানকার বর্তমান সরকার বাইরের শক্তির মদতে রাজ্যের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। কিন্তু বাংলার মানুষ এবার সত্যটা বুঝতে পারবেন, ওখানকার সরকার বাংলাদেশি সরকার, রোহিঙ্গাদের সরকার।“  গিরিরাজের এই বক্তব্যের প্রতিবাদে ময়দানে নেমে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের কথায়, “বাংলায় শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ভরসা।”

উল্লেখ্য গত কয়েকবছর ধরেই বাংলা দখলের মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিজেপি। ২০২১-এর বিধানসভায় বাংলায় ২০০-র বেশি আসন জিতবে বলে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ডাক দিয়েছিল পদ্মশিবির। ভোট প্রচারে মোদি-শাহের মুখে বারবার সেই কথা শোনাও গিয়েছিল।  যদিও তা বাস্তবায়িত হয়নি। বাংলায়  ১০০ আসনও পার করতে পারেনি গেরুয়া শিবির। ছাব্বিশে শাসকদলকে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়তে রাজি নয় বঙ্গ বিজেপি। এসবের মাঝেই বিহারের বিধানসভা ভোটের ট্রেন্ড বঙ্গ বিজেপিকে অক্সিজেন দিতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। শুক্রবার বিহারের ফলাফল স্পষ্ট হতেই বাংলা দখলের ডাক দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং। কার্যত একই সুর শোনা যাচ্ছে বঙ্গ বিজেপির নেতাদের গলায়। বিহারের ফলাফল মোটামুটিভাবে স্পষ্ট হতেই এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, নীতীশ কুমারকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। চাকরি চোর, নারী আক্রমণকারীদের হারাব”, বলে হুংকার দেন বিরোধী দলনেতা।

  গিরিরাজ সিং-সহ বিজেপি নেতাদের এই মন্তব্যের পাল্টা বক্তব্য পেশ করে তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, “ওটা বিহারের সমীকরণ। বাংলার সঙ্গে সম্পর্ক নেই। বাংলায় প্রভাব পড়বে না। বাংলায় উন্নয়ন, ঐক্য, সম্প্রীতি, অধিকার, আত্মসম্মান ফ্যাক্টর। ২৫০+ আসন নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও মুখ্যমন্ত্রী হবেন।” এখানেই শেষ নয়। তিনি আরও বলেন, “বিহার দেখিয়ে বাংলাকে হুমকি দিয়ে বিজেপির যে নেতারা বিবৃতি দিচ্ছেন, হুমকি দিচ্ছেন, তাঁরা অকারণ সময় নষ্ট করছেন। বাংলার মানুষের অধিকার, আত্মসম্মানকে আঘাত করে, শুধু অন্য রাজ্য দেখিয়ে মানুষের ভালোবাসা পাওয়া যায় না। এখানে শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভরসা। বিহার-সহ বহু রাজ্য তাঁর উন্নয়নের মডেল ফলোও করছেন। বাংলার মানুষ সার্বিক স্বার্থেই তৃণমূলকে সমর্থন করেন এবং করবেন।” এ বিষয়ে তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন কুণালের সুরেই কথা বলেছেন। তাঁর কথায়, “ওদের রুখতে যা পরিকাঠামো প্রয়োজন, কংগ্রেস তা তৈরি করতে পারেনি। ওদের হারাতে একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সফল হবেন।“ বাংলাতে বিজেপি কোনওদিনই জিততে পারবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন শাসক দলের মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদারও। এপ্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিহারে ছিলেন, বিহারে জিতেছেন। বাংলাতে আগেও ছিলেন না, ভবিষ্যতেও থাকবেন না। এটা বিজেপি বুঝে নিক।“

এপ্রসঙ্গে গিরিরাজের বিরুদ্ধে  তীব্র  আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূলে শীর্ষস্থানীয় নেতা মন্ত্রীরা। বিজেপির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে সাংসদ সাগরিকা ঘোষ বলেন, “বাংলা ও বাঙালিকে প্রত্যেক দিন অপমান করে চলেছে বিজেপি! ভিনরাজ্যে বাংলার মানুষকে হেনস্থা-মারধর চলছিল, বাংলার মনীষীদের কলুষিত করার অপচেষ্টা চলছিল। বাংলার মানুষকে যত অপমান করবে, বাংলা থেকে তত তাড়াতাড়ি বিলুপ্ত হয়ে যাবে এই বাঙালি-বিদ্বেষী  দলটা।“ এই নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে মন্ত্রী শশী পাঁজা  মুখ খুলেছেন। তিনি বলেন, “বিজেপি একটা বিষবৃক্ষ! মুখ খুললেই বিষ ছড়াচ্ছেন বিজেপির ছোট-বড় নেতারা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং বাংলাকে অপমান করতে গিয়ে সীমা ছাড়িয়েছেন। সব ধর্ম, সব জাতি, সব শ্রেণির মানুষ যে বাংলায় শান্তিতে বসবাস করে, সেই বাংলাকে তিনি বলছেন, রোহিঙ্গা আর বাংলাদেশিদের রাজ্য। এসব অপমান বাংলার মানুষ সহ্য করবে না। আগামীতে কড়া জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছে বাংলা।“ এদিন গিরিরাজ সিং প্রসঙ্গে মন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, “বাংলার উত্তর থেকে দক্ষিণে শুধুমাত্র একজনই আছেন, তিনি মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি মানুষের আশীর্বাদে আবারও থাকবেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপির সাংসদ  গিরিরাজ সিং, যে বাংলার প্রাপ্য অর্থ না দিয়ে, বাংলার প্রতিনিধিদের সাথে দেখা না করে পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান, তাঁর মুখে বাংলা দখলের কথা মানায় না।“