প্রয়াত সুলক্ষণা পণ্ডিত। বৃহস্পতিবার রাতে মুম্বাইয়ের নানাবতি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই নায়িকা গায়িকা। বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন ভারতীয় সিনেমার স্বর্ণযুগের এই অভিনেত্রী। বৃহস্পতিবার তাঁর যাবতীয় লড়াইয়ের অবসান হল।
১৯৫৪ সালে অধুনা ছত্রিশগড়ের রায়গড়ে জন্ম সুলক্ষণার। ৭০ ও ৮০র দশকে বলিউডের প্রথম সারির নায়কদের সঙ্গে চুটিয়ে অভিনয় করেছেন তিনি। রাজেশ খান্না থেকে জিতেন্দ্র, বিনোদ খান্না, শশী কাপুর , শত্রুঘ্ন সিনহাসহ তাবড় নায়কের সঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ছবি হল হেরা ফেরি, আপনাপন, খানদান, চেহরে পে চেহরে, ধরমকাঁটা, ওয়াক্ত কি দিওয়ার প্রভৃতি। নায়িকা হওয়ার আগেই তাঁর গায়িকা হিসেবে বলিউডে আত্মপ্রকাশ। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৯। ১৯৬৭ সালে ‘তকদির’ ছবিতে লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে তাঁর ডুয়েট ‘সাত সমন্দর পার সে’ সুপারহিট হয়। তারপর বহু ছবিতে গান গেয়েছেন। ১৯৭৬ সালে সংকল্প ছবিতে ‘তু হি সাগর তু হি কিনারা’ গানটির জন্য ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পান। এই সময়ের কিছুদিন আগে থেকেই তিনি অভিনয়ের অফার পেতে শুরু করেন। এবং পরবর্তীকালে সংগীত থেকে অভিনয় মনোনিবেশ করেন। ১৯৭৮ সালে বাংলা ছবি ‘বন্দি’তে তিনি মহানায়ক উত্তমকুমারের বিপরীতে অভিনয় করেন।
তবে অভিনেত্রী হিসেবে বেশি পরিচিত হলেও তাঁর গানের গলাটিও ছিল চমৎকার। লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে গানের কথা তো আগেই বললাম। এছাড়াও কিশোরকুমার, মহম্মদ রফি, শৈলেন্দ্র সিং, যেসুদাস, মহেন্দ্র কাপুর, উদিত নারায়ণের সঙ্গেও তিনি ডুয়েট গেয়েছেন। কাজ করেছেন শঙ্কর জয়কিষাণ, লক্ষীকান্ত পেয়ারেলাল, কল্যাণজি আনন্দজি, বাপ্পি লাহিড়ী, রাজেশ রোশনসহ অসংখ্য নামী সংগীত পরিচালকের সঙ্গে। ১৯৯৬ সালে নিজের দুই ভাই যতীন ললিতের সুরে ‘খামোশি দা মিউজিকাল’ ছবিতে ‘সাগর কিনারে ভি দো দিল’ তাঁর শেষ রেকর্ডেড গান।
১৯৭৫ সালে সঞ্জীবকুমারের নায়িকা হিসেবে ‘উলঝন’ ছবিতে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ সুলক্ষণার। সেটে প্রথম দিন দেখেই প্রেমে পড়ে যান সঞ্জীবকুমারের। কিন্তু সঞ্জীবকুমার তখন হেমা মালিনীর প্রেমে মশগুল। হেমা সঞ্জীবকে ফিরিয়ে দিতেই সুলক্ষণা প্রপোজ করেছিলেন সঞ্জীবকুমারকে। সঞ্জীবকুমার সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। ফলে আর কোনওদিনই বিয়ে করেননি সুলক্ষণা পণ্ডিত। শোনা যায় কিছুদিন ডিপ্রেশনেও ছিলেন তিনি। ১৯৮৫ সালে সঞ্জীবকুমারের মৃত্যুর পর ধীরে ধীরে সুলক্ষণা নিজেকে ইন্ডাস্ট্রি থেকে সরিয়ে নেন। কাকতালীয় ঘটনা, সঞ্জীবকুমার মারা গিয়েছিলেন ১৯৮৫ সালের ৬ নভেম্বর। সুলক্ষণার প্রয়াণ দিবসও ৬ নভেম্বর লিপিবদ্ধ হয়ে রইল।





